বাজেট ২০২৬! শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের জোয়ারে কি বদলে যাবে উত্তরবঙ্গ? আশায় বুক বাঁধছে ব্যবসায়ী মহল

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেট ২০২৬-কে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ‘ভবিষ্যৎমুখী রোডম্যাপ’ হিসেবে অভিহিত করল শিল্প ও ব্যবসায়ী মহল। শিলিগুড়িতে লঘু উদ্যোগ ভারতী (LUB) এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII)-এর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। শিল্প প্রতিনিধিদের মতে, এই বাজেট উত্তরবঙ্গকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
অর্থনৈতিক গতির নতুন দিশা
CII উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান সতীশ মিত্রুকা জানান, রাজ্য সরকারের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প বিনিয়োগমুখী নীতি উত্তরবঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করবে। তিনি আরও বলেন, “পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে বাণিজ্য ও পরিষেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্রকে আমূল বদলে দিতে সক্ষম।”
MSME-তে বিশেষ গুরুত্ব
লঘু উদ্যোগ ভারতী (LUB) উত্তরবঙ্গের সভাপতি সিএ আদিত্য মিত্রুকা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (MSME) বিকাশে বাজেটের বরাদ্দকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে:
স্থানীয় উদ্যোক্তারা এই বাজেটের ফলে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ পাবেন।
উত্তরবঙ্গের স্থানীয় যুবকদের জন্য তৈরি হবে চাকরির একাধিক নতুন দুয়ার।
পাহাড় ও সমতলের সমন্বিত উন্নয়ন
শুধুমাত্র সমতল এলাকা নয়, দার্জিলিং এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলোর জন্য পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আদিত্য মিত্রুকার মতে, পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে হোমস্টে, হোটেল ও পরিবহণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাহাড় ও সমতলের এই সমন্বিত উন্নয়নই উত্তরবঙ্গকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা
শিল্পমহল মনে করছে, এই বাজেট কেবল আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং উত্তরবঙ্গের সুষম উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। শিল্পায়ন এবং পর্যটনের প্রসারের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার যে বার্তা রাজ্য সরকার দিয়েছে, তাতে আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা।