“স্প্লেন্ডর প্রো ক্লাসিকের স্মৃতি ফিরছে?”-হিরোর নতুন বাইকের ডিজাইন দেখে শোরগোল

ভারতীয় মোটরসাইকেলের বাজারে ফের রেট্রো বা পুরনো দিনের স্টাইলের বাইকের চাহিদা তুঙ্গে। সেই চাহিদাকে মাথায় রেখেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে হিরো মোটোকর্প (Hero MotoCorp)। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি পেটেন্ট থেকে স্পষ্ট, সংস্থাটি একটি রেট্রো স্টাইলের নতুন কমিউটার বাইক বাজারে আনার তোড়জোড় করছে।
ডিজাইন ও লুক: পুরনো ও নতুনের মেলবন্ধন পেটেন্টের নকশা অনুযায়ী, হিরোর এই আসন্ন বাইকটি সংস্থারই পুরনো মডেল ‘স্প্লেন্ডর প্রো ক্লাসিক’ এবং বিদেশের বাজারে জনপ্রিয় ‘হিরো ইকো ১৫০’-এর ডিজাইনের একটি নিখুঁত সংমিশ্রণ। গত বছরের ৫ অগস্ট এই মডেলটির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
বাইকটির কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:
-
হেডল্যাম্প: এতে থাকছে আকর্ষণীয় কমপ্যাক্ট এবং গোলাকার হেডল্যাম্প।
-
বডিওয়ার্ক: বাইকটিতে থাকছে ছিপছিপে ফুয়েল ট্যাঙ্ক, লম্বা সিঙ্গল সিট এবং রুক্ষ অথচ ক্লাসিক সাইড প্রোফাইল।
-
উপযোগিতা: চওড়া ও সমতল সিট থাকার ফলে এটি সাধারণ নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি যারা বাইক-ট্যাক্সি বা ফ্লিট ব্যবসায় যুক্ত, তাদের জন্য দারুণ কার্যকর হতে পারে।
-
ফিচার্স: এতে দেওয়া হয়েছে ফাইভ-স্পোক অ্যালয় হুইল এবং টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট সাসপেনশন, যা দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরামদায়ক করবে।
কেন এই মডেলটি বিশেষ? ২০১৪ সালে হিরো যখন প্রথমবার ‘স্প্লেন্ডর প্রো ক্লাসিক’ এনেছিল, তখন তা খুব একটা সাফল্য পায়নি। কিন্তু বর্তমানে বাইক-ট্যাক্সি এবং ডেলিভারি পরিষেবার চাহিদা বাড়ায়, হিরো সম্ভবত একটি মজবুত ও রেট্রো ডিজাইনের বাইকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। বিশেষ করে ইকো ১৫০-এর কার্গো এডিশনের কার্যকারিতা এই নতুন বাইকে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে সংস্থার।
লঞ্চ কি নিশ্চিত? অটোমোবাইল দুনিয়ায় পেটেন্ট ফাইল করার অর্থই যে বাইকটি বাজারে আসবে, তা নিশ্চিত নয়। অনেক সময় সংস্থাগুলি ভবিষ্যতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনেক ডিজাইনের পেটেন্ট করিয়ে রাখে। তবে হিরোর এই উদ্যোগ যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে ১০০ সিসি থেকে ১৫০ সিসি সেগমেন্টে এটি বড় চমক হতে পারে।
রেট্রো লুকের এই বাইকটি যদি সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে আসে, তবে তা টু-হুইলার বাজারে ফের এক নতুন ট্রেন্ড তৈরি করতে পারে। এখন দেখার, হিরো কবে অফিসিয়ালি এই বাইকের নাম এবং লঞ্চের তারিখ ঘোষণা করে।