“এত ঔদ্ধত্য!” প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ করতেই পড়ুয়াদের তকমা ‘দেশদ্রোহী’? মোদী সরকারকে তুলোধোনা কেজরিওয়ালের

দেশজুড়ে নিট (NEET) সহ একাধিক সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যখন তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের নিশানা করার অভিযোগে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে অবতীর্ণ হলেন আম আদমি পার্টির (AAP) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে এসে প্রতিবাদ জানানো অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের যেভাবে ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘টুকরো টুকরো গ্যাং’-এর তকমা দেওয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
“ছাত্রদের আন্দোলন হজম করতে পারছে না বিজেপি!”
অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ছাত্রদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও বিশাল বিক্ষোভ বিজেপি এবং মোদী সরকারের মন্ত্রীরা কোনওভাবেই হজম করতে পারছেন না। একদিকে ছাত্ররা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে উল্টো সেই প্রতিবাদী ছাত্রদের ওপরই নানাভাবে হামলা চালানো হচ্ছে এবং তাঁদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে।
পড়ুয়াদের আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত
আপ সুপ্রিমোর দাবি, পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দুর্বল ও কলঙ্কিত করার জন্যই তাঁদের গায়ে ‘দেশবিরোধী’ তকমা সেঁটে দেওয়ার এক নোংরা প্রবণতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের একটি বিবৃতির ভিডিও শেয়ার করে সরাসরি তোপ দেগেছেন কেজরিওয়াল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “এত ঔদ্ধত্য? প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকারী এই নিরীহ শিশুরা দেশকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে চায়? আর আপনারা লক্ষ লক্ষ বাচ্চার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেশকে বাঁচাচ্ছেন?” কেজরিওয়ালের এই পোস্ট ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে।
“প্রশ্ন ফাঁস আসলে হাজার হাজার কোটির ব্যবসা!”
শুরু থেকেই আম আদমি পার্টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের শিকার হওয়া পরীক্ষার্থীদের সমর্থনে রাজপথে নেমেছে। নিট কেলেঙ্কারির পর ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে বহু শিক্ষার্থী চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পদক্ষেপও নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গ টেনেই কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কেজরিওয়াল।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আর কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আসলে একটি বহু বিলিয়ন ডলারের (হাজার হাজার কোটি টাকার) কালো ব্যবসা। আর এর নেপথ্যে জড়িয়ে রয়েছে দেশের অত্যন্ত প্রভাবশালী কিছু মাথা।” কেজরিওয়ালের অভিযোগ, প্রতি দুই বা তিন বছর পর পরই নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নেওয়া প্রতিটি পরীক্ষাই এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির কালিমায় কলঙ্কিত। একের পর এক ভুলের কারণে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। পরিশেষে তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টি আসলে সদিচ্ছার। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যই অসৎ, আর সেই কারণেই যুবসমাজের ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারের মুখে।