“রাম মন্দিরের অনুদান চুরি ঘোর পাপ, SIT মানেই চুরিতে ভাগ!” যোগী সরকারকে একহাত নিলেন অখিলেশ যাদব

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি এবং লখনউয়ের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এবার যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন সমাজবাদী পার্টির (SP) সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের জন্য দেওয়া ভক্তদের অনুদান চুরির তীব্র সমালোচনা করে তিনি একে “গুরুতর মহাপাপ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। অখিলেশের সাফ কথা, কোটি কোটি মানুষের সনাতন বিশ্বাসের সঙ্গে এমন ছিনিমিনি খেলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

“SIT মানে কী, চুরিতে অংশীদারিত্ব?”
অযোধ্যায় পূজা-অর্চনা এবং অনুদান চুরির ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অখিলেশ যাদব। তিনি তদন্তের নামে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলকে (SIT) তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “এসআইটি মানে কী? চুরিতে ভাগ বসানো? এটা শুধু চুরি নয়, এটা কোটি কোটি ভক্তের সঙ্গে চরম বিশ্বাসভঙ্গ। ঈশ্বরের ঘরের টাকা যারা লুঠ করে, তারা গুরুতর পাপ করছে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশ এবং আন্তর্জাতিক স্তর থেকে প্রাপ্ত রাম মন্দিরের এই অনুদান সনাতন ঐতিহ্যের অঙ্গ, একে কলঙ্কিত করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।

“মুখ্যমন্ত্রী বেঙ্গালুরু গিয়েছেন দোসা খেতে!”
ইউপি গ্লোবাল গ্রোথ ডায়ালগ ২০২৬ এবং ইনভেস্টর রোডশো-তে অংশ নিতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বেঙ্গালুরু সফরকেও একহাত নিয়েছেন সপা প্রধান। তীব্র উপহাস করে অখিলেশ বলেন, “ব্যক্তিগত লাভের জন্য লক্ষ লক্ষ একর জমি কাকে যে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও স্বচ্ছতা নেই। এখন তারা নাকি বেঙ্গালুরুতে বিনিয়োগ আনতে যাচ্ছে! আসলে তারা বেঙ্গালুরুতে যাচ্ছে শুধু দোসা খেতে। এই সরকার তো চলেই যাবে, তখন বিনিয়োগ কে আনবে?” তাঁর অভিযোগ, সরকার উন্নয়নের নামে জঙ্গল ধ্বংস করছে, কিন্তু বাস্তবে কোনও কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না।

লখনউয়ের অগ্নিকাণ্ডে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে কাঠগড়ায় সরকার
লখনউয়ের আলিগঞ্জের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে যোগী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন অখিলেশ। তিনি বলেন, “যদি সময়মতো হাসপাতালে বা সংস্থায় প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকত, তবে এই নিষ্পাপ শিশুদের জীবন বাঁচানো যেত। সরকার যদি আগে থেকে সতর্ক থাকত, তবে এই বিপর্যয় ঘটত না।”

পূর্ববর্তী লেভানা হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তখন সরকার বলেছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুলডোজার চালাবে। কিন্তু যেহেতু ওটা ওদের নিজেদের লোকেদের হোটেল ছিল, তাই বুলডোজার চলেনি। সরকার যদি আকবর নগর থেকে হাজার হাজার গরিব মানুষকে নিমেষে উচ্ছেদ করতে পারে, তবে গত ১০ বছরে সুরক্ষার স্বার্থে কী করছিল?”

তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আগুন লাগার পর উদ্ধারকারীদের কাছে দেওয়াল ভাঙার সামান্য সরঞ্জাম পর্যন্ত ছিল না। আগুনে পুড়ে যাওয়ার চেয়ে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বেশি শিশু মারা গেছে। এই চরম অব্যবস্থা ও গাফিলতির দায় যোগী সরকার কোনওভাবেই এড়াতে পারে না বলে দাবি অখিলেশ যাদবের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *