কয়েক হাজার টাকার কেবলের জন্য চরম ভোগান্তি! রেলের সিগন্যাল কেটে ট্রেন থামিয়ে দিল চোর, মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

চুরির নিত্যনতুন ঘটনা প্রায়শই খবরের শিরোনামে উঠে আসে। কোথাও সোনাদানা বা গয়না, তো কোথাও নগদ টাকা ও গাড়ি চুরির খবর মেলে। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে চুরির এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে, যা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পর্যন্ত হতবাক করে দিয়েছে। সামান্য কিছু টাকার লোভে চোরেরা রেলের সিগন্যাল কেবেল কেটে ফেলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন মাঝপথে আটকে পড়ে এবং স্টেশনে চরম হুলস্থুল বেধে যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে জবলপুর রেলওয়ে স্টেশনের ইয়ার্ড কিলোমিটার নম্বর ৯৯১-২৯ সংলগ্ন লোকেশন বক্সের কাছে। চোরেরা রাতের অন্ধকারে সিগন্যালের সংযোগকারী কেবেল কেটে চম্পট দেয়। চোরদের কাছে এটি নেহাতই তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের টুকরো হলেও, রেল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তা ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় জবলপুর-রিবা এক্সপ্রেস, এলটিটি-রাজগির ট্রেন, নিজামুদ্দিন-জবলপুর এক্সপ্রেস এবং লখনউ-যশবন্তপুর এক্সপ্রেসের মতো একাধিক দূরপাল্লার গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়।

সিগন্যাল না পাওয়ায় ট্রেনগুলো প্রায় আধ থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কেবেল মেরামত করার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনার পরেই তৎপর হয়ে ওঠে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (RPF)। অপরাধীদের ধরতে সাহায্য করে রেলের বিশেষ সোলার পাওয়ার স্ট্যান্ড-অ্যালোন ক্যামেরা। জবলপুর, সিহোরা ও ভিটৌনী সংবেদনশীল এলাকায় লাগানো এই সোলার ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ খতিয়ে দেখেই মূল অভিযুক্তের নাগাল পায় পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ৩৭ বছর বয়সি মূল অভিযুক্ত আনসারিকে গাজিনগর এলাকা থেকে পাকড়াও করে আরপিএফ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া কেবেলও। জেরার মুখে ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করে যে, সে তার ভাই আকবর আনসারি ও সঙ্গী জপ্পু নাটির সঙ্গে মিলে রেল ইয়ার্ডের বক্স ভেঙে এই কেবেল কেটেছিল। রেলকর্মী চলে আসায় প্রথমে তা ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে রাতে তা নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে সে।

আরপিএফ পোস্ট ইনচার্জ রাজীব খরব জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া কেবেলটির আনুমানিক বাজারমূল্য মাত্র ৬,৭৫০ টাকা হলেও এর জেরে হাজার হাজার রেলযাত্রীর মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে রেলওয়ে প্রপার্টি অ্যাক্ট ও রেল আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বাকি দুই পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে বর্তমানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *