রাত আড়াইটায় তেহট্টে পুলিশের মেগা অপারেশন! ৩ কেজি সোনা উদ্ধারের পর ‘বান্ধবী’ প্রাইমারি টিচারের এ কী দাবি?

পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের সেই কুখ্যাত ‘নগদ ও সোনা’ কেলেঙ্কারির স্মৃতি ফের একবার উস্কে দিল টলিপাড়ার রাজনীতি। এবার রাজ্য রাজনীতির স্পটলাইটে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)। তোলাবাজি ও ভয় দেখিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে গত ৮ জুন গ্রেফতার করা হয়েছিল সব্যসাচীকে। আর তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পরই এবার তদন্তকারীদের হাতে এল এক বিপুল পরিমাণ সোনার খনি!

সব্যসাচী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের একাধিক ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে কোটি কোটি টাকার সোনা ও রুপো উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা, যা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ব্যাঙ্ক লকার খুলতেই ৪ কোটির সোনা!
তদন্তে নেমে প্রথমে রাজারহাটে সব্যসাচী দত্তের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে প্রায় ৮৭ গ্রাম সোনা এবং বিপুল পরিমাণ সোনা কেনাবেচার রসিদ উদ্ধার হয়। কিন্তু আসল ধামাকাটা অপেক্ষা করছিল ব্যাঙ্কের অন্দরে!

সব্যসাচীর একটি ব্যাঙ্ক লকার খুলতেই তদন্তকারীদের চোখ চড়কগাছ। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ কেজি সোনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা! এছাড়া আরেকটি লকার থেকে মিলেছে প্রায় ১ কেজি ৩০০ গ্রাম রুপো।

আরও পড়ুন:

বিদেশ যেতে চেয়েই আদালতে ধাক্কা! অভিষেকের আবেদন খারিজ, কী বলল হাই কোর্ট?

কে এই ‘বান্ধবী’ টিনা? মধ্যরাতে তেহট্টে পুলিশের মেগা রেড!
সব্যসাচীকে জেরার সূত্র ধরেই তদন্তকারীদের নজরে আসেন নদীয়ার তেহট্টের বাসিন্দা টিনা ভৌমিক সাহা। সোমবার গভীর রাতে তেহট্টে টিনার দুটি বাড়িতে একযোগে হানা দেয় পুলিশ। আর সেখান থেকেও উদ্ধার হয় আরও ৩ কেজি সোনা, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা!

উল্লেখ্য, টিনা ভৌমিক সাহা শুধু সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠই নন, তিনি নিজেও তৃণমূলের একজন সক্রিয় নেত্রী এবং ২০১৮ সাল থেকে নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্য। পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাও (Primary School Teacher)। তবে তাঁর এই চাকরি প্রাপ্তি নিয়েও অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে।

শুভেন্দুর চাঁছাছোলা তোপ ও টিনার পাল্টা দাবি
এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন:

“বিধাননগরে আপনাদের বড় নেতা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর মতো ওনারও বান্ধবীর বাড়ি থেকে কেজি কেজি সোনা পাওয়া যাচ্ছে। মাননীয় বিরোধী দলনেতা আগে ঠিক করুন কার পক্ষে বলবেন আর কার বিরুদ্ধে বলবেন। সব সোনা ২০২১ সালের পরে কেনা, রসিদ পাওয়া গিয়েছে।”

অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ধৃত সব্যসাচী-ঘনিষ্ঠ নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার দাবি, সম্পূর্ণ আইন মেনেই এই সোনা রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “পরিবারের ৭ জন মহিলা সদস্যের সোনা এক জায়গায় করে ওনারা সিজার (Seize) করেছেন। আমাদের কাছে আইনত তথ্য-প্রমাণ আছে, ট্যাক্স ফাইলেও তোলা আছে। সংবিধান মেনে সোনা রেখেছি। ওনারা কীভাবে বলতে পারেন? রাত আড়াইটে-তিনটে নাগাদ এসে এসব করেছেন ওনারা।”

তদন্ত জারি:
ট্যাক্স ফাইলের দাবি করা হলেও একজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা তথা জেলা পরিষদ সদস্যের বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ সোনা কীভাবে এল, তার প্রকৃত উৎস খুঁজছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তদন্ত যত এগোবে, সব্যসাচী ও তাঁর বান্ধবীর এই ‘স্বর্ণ-যোগ’-এ আরও বড় বড় রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *