‘বাবা, আমাকে বাঁচাও…’ ভোরের আলো ফোটার আগে ফুটপাথ থেকে উধাও ১০ বছরের শিশু!

ঘড়িতে তখন ভোর ৪টা বেজে ১৫ মিনিট। চারদিক তখনও অন্ধকার। দিল্লির ছত্তরপুর মেট্রো স্টেশনের কাছে ফুটপাথে ক্লান্ত শরীরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল এক দিনমজুর পরিবার। খোলা আকাশের নিচে মা-বাবার পাশেই ঘুমিয়ে ছিল ১০ বছরের একরত্তি শিশু। আচমকাই সেখানে এসে দাঁড়ায় একটি সাদা রঙের চার চাকা গাড়ি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘুমন্ত শিশুটিকে পাঁজাকোলা করে তুলে নেয় গাড়ির চালক। চিৎকার যাতে না করতে পারে, তার জন্য মুখে চেপে ধরা হয় কাপড়। তার মধ্যেও প্রাণপণে চিৎকার করে উঠেছিল শিশুটি— ‘বাবা-আ-আ-আ, আমাকে বাঁচাও…’।

কিন্তু সেই আর্তনাদ ঘুমন্ত বাবার কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লির দক্ষিণ মেহরৌলির একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো ওই ১০ বছরের শিশুটির পাথর চাপা রক্তাক্ত দেহ। রাজধানীতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আরও একবার বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে দিল্লির নারী ও শিশু নিরাপত্তা।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেফতার অভিযুক্ত, আচরণে নেই অনুশোচনা

নৃশংস এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে। তাতেই চিহ্নিত করা হয় ঘাতক গাড়ি ও তার চালককে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ পশ্চিম দিল্লির বিকাশপুরী থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে অভিযুক্ত বাসুকুমার সিং-কে। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (BNS) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করার আগে তার ওপর চরম যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণ করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এত বড় অপরাধ করার পরেও অভিযুক্ত বাসুকুমারের মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা ভয় ছিল না। গ্রেফতারের পর তার আচরণ ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক।

অপরাধের আগে গাঁজা সেবন, বারবার বয়ান বদল

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত বাসুকুমার সিং আদতে বিহারের বাসিন্দা, তার পরিবার সেখানেই থাকে। পুলিশি জেরায় সে স্বীকার করেছে যে, অপরাধটি করার আগে সে দেদার গাঁজা সেবন করেছিল। তবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে জেরা চলাকালীন বারবার নিজের বয়ান বদল করছে এই অপরাধী।

  • প্রথম বয়ান: প্রথমে সে দাবি করে, ফতেহপুর বেরির কাছে চলন্ত গাড়ির ভেতরেই সে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালায়।

  • দ্বিতীয় বয়ান: পরে বয়ান বদলে সে জানায়, গাড়ি চালিয়ে সে ফরিদাবাদ-গুরুগ্রাম সড়কের পাশের একটি জঙ্গলে চলে যায়। সেখানেই শিশুটিকে ধর্ষণের পর কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং শেষে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করে।

ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের আশ্বাস, ফুঁসছে মেহরৌলি

এই রোমহর্ষক ঘটনার খবর চাউর হতেই মেহরৌলি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অপরাধীর কঠোরতম তথা ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিল্লির বুকে বারবার শিশুদের সুরক্ষা ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের (Fast Track Court) মাধ্যমে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *