অরুণাচলে প্রকৃতির তাণ্ডব, হুড়মুড়িয়ে নামল হড়পা বান! নিখোঁজ ৩, ভেসে গেল একের পর এক গ্রাম

বিগত কয়েকদিন ধরেই লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অরুণাচল প্রদেশ। আর বুধবার সকালে সেই পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ নিল। প্রবল বৃষ্টির জেরে অরুণাচলের কেয়ি প্যানইওর জেলায় আচমকা ধেয়ে এল হড়পা বান (Flash Flood)। জলের তোড়ে নিমেষের মধ্যে প্লাবিত হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৮টি বসতি এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন।

চোখের নিমেষে ভেসে গেল আস্ত কলোনি!
রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরের সচিব দানি সুলু জানিয়েছেন, অরুণাচলের ইয়াজালি সার্কলের আওতায় পুসার কাছে নিপকো (NEEPCO) প্রজেক্ট কলোনিতে হড়পা বানের জেরে তিনজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভারী বৃষ্টির ধাক্কায় একটি নির্মীয়মান বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়েছে। নিচু জায়গায় থাকা একাধিক বসতি এলাকা জলের প্রবল তোড়ে স্রেফ ভেসে গিয়েছে।

🚨 উদ্ধারকাজে নামল প্রাক্তন সেনাবাহিনী:
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জেলা প্রশাসনের তরফে পুলিশের সহকারী ডেপুটি কমিশনার, ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট এবং সার্কল অফিসারদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য ইতিমধ্যেই এসডিআরএফ (SDRF) টিম মোতায়েন করা হয়েছে এবং এনডিআরএফ (NDRF)-কেও হাই-অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে জরুরিভিত্তিতে উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়েছেন দেশের প্রাক্তন সেনা কর্মীরাও।

বাঁধ থেকে ছাড়া হলো জল, বন্ধ ৩টি জাতীয় সড়ক
বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে এবং বড়সড় বিপদ এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নর্থ ইস্টার্ন ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (নিপকো) ইতিমধ্যে রঙ্গানদী বাঁধ থেকে জল ছাড়তে শুরু করেছে। নিরাপত্তার কারণে আপাতত গোটা এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

এই ব্যাপক বৃষ্টির কারণে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি জাতীয় সড়ক (পোতিন এবং হজের কাছে) ধস নামার কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে বহু মানুষ মাঝরাস্তায় আটকে পড়েছেন।

প্রশাসনের আর্জি:
ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জাতীয় সড়ককে ফের সচল করার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচিব দানি সুলু। তবে ঠিক কতটা আর্থিক ও পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মেনে বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ সমস্ত রাজ্যবাসীর কাছে জোড়হাতে আর্জি জানিয়েছে, তারা যেন এই মুহূর্তে দুর্ঘটনাপ্রবণ এবং নদী তীরবর্তী এলাকাগুলি ছেড়ে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *