“ধংস্ব স্তূপের তলা থেকে গোঙানি, আর্তনাদ”-তারাতলায় শিউরে ওঠা বিপর্যয়! চলছে উদ্ধার

ভরদুপুরে কলকাতার তারাতলায় শিউরে ওঠা বিপর্যয়। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিকের চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে ভারতীয় সেনা। পৌঁছে গিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ঢালাই চলার সময়ই তাসের ঘরের মতো ভাঙল ছাদ!
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ তারাতলার ওই গোডাউনে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় একসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। আচমকাই বিকট শব্দে নির্মীয়মাণ ছাদটি ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে চারিদিক ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আর্তনাদ শুরু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নবান্নের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে মোতায়েন করা হয়েছে একাধিক দমকলের ইঞ্জিন এবং সারিবদ্ধ অ্যাম্বুল্যান্স। ভারী ক্রেন এবং গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার বিম ও কংক্রিটের অংশ কেটে আটকে পড়া মানুষদের বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।
ঘটনাস্থলেই হাজির চিকিৎসকের দল, ক্ষোভে ফুটছেন স্থানীয়রা
উদ্ধার হওয়া জখম শ্রমিকদের যাতে চিকিৎসার জন্য এক মুহূর্তও অপেক্ষা করতে না হয়, তার জন্য দুর্ঘটনাস্থলেই পৌঁছে গিয়েছে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই গ্রাউন্ড জিরোতেই তাঁদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid) দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং কোনো রকম সুরক্ষাবিধি না মেনেই এই নির্মাণকাজ চলছিল। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের কারণে এমনিতেই নির্মীয়মাণ কাঠামোটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তার ওপর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
উদ্ধারকাজের মাঝেই শুরু রাজনৈতিক তরজা
ভয়াবহ এই ঘটনার খবর পেয়েই তারাতলায় পৌঁছান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
কী বললেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ? ঘটনাস্থল থেকে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আপাতত আমাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রতিটি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা। সব ধরনের উদ্ধারকারী দল এখানে জান লড়িয়ে কাজ করছে।” এর পাশাপাশি পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এই সব বেআইনি নির্মাণ তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে তৈরি হচ্ছিল।”
গোডাউনটি ভেঙে পড়ার নেপথ্যে আসল কারণ কী, সেখানে আদৌ শ্রমিকদের সুরক্ষার কোনো বন্দোবস্ত ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে নিখোঁজ শ্রমিকদের সুরক্ষিতভাবে বের করে আনাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।