বিচারপতি ও মন্ত্রীদের নামে মিথ্যে ছড়ানোর মাশুল! সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সরানোর কড়া নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের জড়িয়ে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি তেজস কারিয়ার অবকাশকালীন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে যেন এই বিদ্বেষপূর্ণ ও ভুয়ো পোস্টগুলো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
কী ঘটেছিল?
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিভ্রান্তিকর পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারি খরচে লন্ডনে একটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়েছেন। এমনকি পোস্টটিতে তাঁদের উপস্থিতির ভুয়ো ছবিও ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (BAI) একটি পিটিশন দাখিল করে। আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্ট জানান, এই দাবিটি “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর”। যারা ওই টুর্নামেন্টে যাননি, তাঁদের উপস্থিতির ছবি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ এই ধরনের পোস্টকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আদালত বলেছে:
প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষা: এই ধরনের মিথ্যা প্রচার বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের সুনামের ওপর সরাসরি আঘাত।
জনগণ ও বিচার ব্যবস্থার আস্থা: এই জাতীয় কন্টেন্ট অবিলম্বে বন্ধ না হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিকল্পিত চক্রান্ত: আদালত মনে করে, এটি কোনো সাধারণ সমালোচনা নয়, বরং ব্যক্তিদের সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি পরিকল্পিত মিথ্যা তথ্য প্রচারণার অংশ।
কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
শুনানি চলাকালীন আদালত উল্লেখ করেছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো (Social Media Intermediaries) যদি এই ধরনের বিদ্বেষমূলক বা মিথ্যা তথ্য অপসারণ না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে। সরকারকেও এই ধরনের অপপ্রচারের মোকাবিলায় সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
দেশের সাংবিধানিক প্রধান এবং বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের নিয়ে এমন অপপ্রচারের ঘটনায় এখন প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের এই নির্দেশ সাইবার অপরাধ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।