যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি! মোজতবা খামেনির সতর্কবার্তায় স্তব্ধ কট্টরপন্থীরা, তবুও বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বিভাজন!

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একদিকে চুক্তির পক্ষে সরকারের অবস্থান, অন্যদিকে কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর তীব্র বিরোধিতা—সব মিলিয়ে দেশটিতে এক গভীর বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মোজতবা খামেনির কঠোর বার্তা
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে জনগণের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাস তৈরি করে এমন কোনো কাজ করা মানেই ‘শত্রুকে সাহায্য করা’। মূলত কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরপরই রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁরা দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
কট্টরপন্থীদের কঠোর অবস্থান
সরকারের সমঝোতামূলক নীতির বিপরীতে দেশের রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো একের পর এক আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে:
গণমাধ্যমের ভূমিকা: ‘কায়াহান’ পত্রিকার সম্পাদক হোসেন শরিয়ত মাদারি এবং এমপি ইসমাইল কোসারির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই চুক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন।
ফতোয়া ও ধর্মীয় বাধা: আইআরআইবি (IRIB)-এর মতো রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ আলেম এই আলোচনাকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করেছেন। শেখ ইসমাইল রমজানী ও গোলামরেজা ঘাসেমিয়ানের মতো ধর্মগুরুরা সরাসরি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সুসম্পর্ক অসম্ভব।
পায়দারি পার্টির সমালোচনা: উগ্রপন্থী রাজনৈতিক দল ‘পায়দারি পার্টি’ এবং তাদের সমর্থক সাংসদরা নিরন্তর প্রশ্নবিদ্ধ করছেন আলোচক দলকে, যা সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হুমকির মুখে ঐক্যের প্রচেষ্টা
প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে, তাদের তীব্র জনরোষের সম্মুখীন হতে হতে পারে। চুক্তির ফলে কট্টরপন্থীদের প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও, আলোচনার টেবিল থেকে রাজপথ পর্যন্ত সর্বত্রই স্পষ্ট যে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশ্নে ইরানের রাজনীতি এখন দ্বিধাবিভক্ত।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চুক্তি কেবল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।