টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কোচবিহার! তোর্ষা ও রায়ডাকের জলোচ্ছ্বাসে বিচ্ছিন্ন বহু এলাকা

গত দু’দিনের একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের কোচবিহার। তোর্ষা ও রায়ডাক নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে কোচবিহার-১ নম্বর ব্লক এবং তুফানগঞ্জ-২ নম্বর ব্লকের বহু মানুষ জল-যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন। শহরের বেশ কিছু এলাকাও জলমগ্ন, যার ফলে রবিবার সকাল থেকেই ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল।

রায়ডাকের তাণ্ডব ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন:
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা রায়ডাক নদীর জালধোয়া ঘাটে। জলের তীব্র স্রোতে নদীর ওপর তৈরি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে ভেসে গিয়েছে। এই সাঁকোটিই ছিল রামপুর, ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বক্সিরহাট ও তুফানগঞ্জের বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় রামপুরের সঙ্গে ওই এলাকার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এখন বাধ্য হয়ে নৌকার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন। রামপুরের বাসিন্দা দিলীপ বর্মণ আক্ষেপ করে জানান, প্রতি বছর শুখা মরশুমে অস্থায়ী সাঁকো দিয়েই পারাপার চলে, কিন্তু বর্ষা এলেই তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।

প্রশাসনের নজরদারি:
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেচ দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। নিচু এলাকাগুলো থেকে জল নামানোর প্রক্রিয়া নিয়েও স্থানীয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

সেতুর দাবির দীর্ঘ ইতিহাস:
এই জল-যন্ত্রণা যেন এলাকাবাসীর কাছে প্রতি বছরের রুটিন। দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে ওই এলাকার বাসিন্দারা রায়ডাক নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর মতে, এই সেতু নির্মিত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই উন্নতি হবে না, বরং তুফানগঞ্জ মহকুমা অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু চার দশক পেরিয়ে গেলেও সেই দাবি আজও উপেক্ষিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *