লেবাননে ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলা, প্রাণহানি ১৬! ভেস্তে গেল আমেরিকা-ইরান উচ্চপর্যায়ের বৈঠক?

মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা। একদিকে লেবাননে হিজবুল্লার ডেরায় ইজরায়েলি সেনার ভয়াবহ হামলা, অন্যদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরিকল্পিত আলোচনা স্থগিত—সব মিলিয়ে আবারও এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)-এর হামলায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামলার নেপথ্যে ইজরায়েল:
ইজরায়েলি সেনার দাবি, হিজবুল্লা বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারই পাল্টা জবাব হিসেবে দক্ষিণ লেবাননে রাতভর এই অভিযান চালানো হয়েছে। একদিকে যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যস্থতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই এই হামলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়েছে।
ভেস্তে গেল আমেরিকা-ইরান বৈঠক:
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই সুইজারল্যান্ডের বিদেশ মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে যে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সুইস বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা বার্গেনস্টকে এই আলোচনার মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হলো। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল আলোচনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড যাত্রা বাতিল করেছেন। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দল যেকোনো মুহূর্তে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি:
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তেহরানের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে ইরান চুপ করে বসে থাকবে না। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, “চুক্তিভঙ্গকারী শত্রুর ওপর আমাদের কোনো ভরসা নেই। আমেরিকার পক্ষ থেকে কোনো চুক্তি লঙ্ঘন হলে, আগে থেকে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
বিশ্লেষকদের মত:
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের এই আলোচনা ছিল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিন্তু লেবাননে ইজরায়েলি হামলার জেরে সেই সম্ভাবনা এখন ধোঁয়াশার মুখে। একদিকে যুদ্ধের ডামাডোল, অন্যদিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।