আম্বানির মহাকাশ জয়, এলন মাস্কের দাপট কমাতে এলইও (LEO) সেক্টরে প্রবেশ জিও-র, কী এই বিশাল প্রকল্প?

এলেন মাস্কের স্টারলিংককে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত ভারতের রিলায়েন্স জিও। মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন এই টেলিকম সংস্থা এবার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে নামতে চলেছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit – LEO) প্রায় ১৬০০ থেকে ১৬৫০টি স্যাটেলাইটের একটি সুবিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেছে জিও। এই স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হবে, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত প্রান্তেও উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড এবং ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।

‘ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিলায়েন্স জিও ইতিমধ্যেই ভারতের স্পেস রেগুলেটর ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার’ (IN-SPACe)-এর কাছে তাদের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বর্তমানে এই প্রস্তাবের টেকনিক্যাল আর্কিটেকচার এবং স্যাটেলাইট কনফিগারেশন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি ভারতীয় কর্পোরেট জগতের জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, কারণ প্রথমবারের মতো কোনো দেশীয় সংস্থা সরাসরি বৈশ্বিক এলইও সেক্টরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নামছে।

কেন এই পদক্ষেপ এত গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে এলইও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে এলেন মাস্কের কোম্পানি স্টারলিংক একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে আছে, যাদের মহাকাশে প্রায় ১০,০০০ স্যাটেলাইট রয়েছে। এছাড়াও জেফ বেজোসের আমাজন এবং সুনীল মিত্তলের ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এই বাজারে বড় নাম। তবে জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ভারত সরকার বিদেশি স্যাটেলাইট সংস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (ITU) কাছে অরবিটাল স্লট পাওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার রিলায়েন্স জিও-কে পূর্ণ সহায়তা করতে প্রস্তুত। জিও ছাড়াও দেশের অন্যান্য মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে এই কৌশলগত ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে সরকার।

রিলায়েন্স জিও-র ইতিমধ্যে লল্গজামবার্গের সংস্থা ‘এসইএস’ (SES)-এর সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) রয়েছে, যারা জিওস্টেশনারি এবং মিডিয়াম আর্থ অরবিটে পরিষেবা দেয়। তবে এলইও-তে নিজস্ব কনস্টেলেশন তৈরি হলে জিও-র নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হবে কয়েক গুণ। এই স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন কার্যকর হলে পাহাড়, জঙ্গল বা গভীর সমুদ্রের মতো দুর্গম এলাকায় যেখানে ফাইবার কেবল পৌঁছানো কঠিন, সেখানেও হাই-স্পিড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এটি কেবল সাধারণ গ্রাহকদের জন্যই নয়, বরং দেশের সামরিক এবং সরকারি জরুরি পরিষেবাগুলোর জন্যও একটি মাইলফলক হতে চলেছে। আম্বানির এই মহাকাশ অভিযান ভারতকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে স্বনির্ভর করার পাশাপাশি বৈশ্বিক মহাকাশ মানচিত্রে এক শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *