শিলিগুড়ির মেয়র পদে ইস্তফা গৌতম দেবের! ছাড়লেন সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তা, রাজনৈতিক মহলে জল্পনা

শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গৌতম দেব। বৃহস্পতিবার কর্পোরেশনের কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাঁর সরকারি গাড়ি এবং নিরাপত্তাও ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে খবর। আচমকা এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে শিলিগুড়ি তথা রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।

ইস্তফার কারণ ও প্রেক্ষাপট:
সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের মেয়াদ এখনও এক বছরের বেশি বাকি থাকা সত্ত্বেও গৌতম দেব নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করতে না পারার কারণেই তিনি এই পদত্যাগ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি বিধানসভা আসন থেকে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। দলীয় অন্দরমহলের খবর, নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই গৌতম দেব নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং দলের নতুন নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

নতুন দায়িত্বে গৌতম দেব:
মেয়র পদ ছাড়ার ঠিক আগের দিনই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বড় সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। গৌতম দেবকে দলের দার্জিলিং (সমতল) জেলা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছে তৃণমূল। পাশাপাশি, শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুন্তল রায়কে নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাংগঠনিক পরিবর্তনের লক্ষ্য:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিং সমতলের তিনটি আসনেই তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। আগামী বছর হতে চলা পুরভোট এবং মহকুমা পরিষদের নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধার করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। অভিজ্ঞ গৌতম দেবকে দলের জেলা চেয়ারম্যানের পদে বসিয়ে এবং কুন্তল রায়ের মতো নতুন মুখকে সভাপতি করে তৃণমূলের এই ‘ঘুরে দাঁড়ানোর’ কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

পদত্যাগের পর গৌতম দেব জানিয়েছেন, দল তাঁর ওপর যে নতুন দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তিনি তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করবেন। অন্যদিকে, নতুন জেলা সভাপতি কুন্তল রায় তৃণমূলের সাফল্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মানচিত্রে এই পরিবর্তন কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *