‘বেস্ট’ বাস ধর্মঘটে উত্তাল মুম্বই, মেসমা আইন উপেক্ষা করেই পথে কর্মী-ইউনিয়ন, বড় ভোগান্তির মুখে আমজনতা

মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনের পরেই গণপরিবহনের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাধ্যম ‘বেস্ট’ (BEST) বাসের চাকা স্তব্ধ হয়ে গেল। শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) মধ্যরাত থেকে ‘বেস্ট কামগার সংযুক্ত কৃতি সমিতি’-এর ডাকে ১২টি কর্মী ইউনিয়নের প্রায় সব সদস্য অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের পথে হাঁটলেন। শিল্প আদালতের স্থগিতাদেশ এবং প্রশাসনের কঠোর ‘মেসমা’ (MESMA) আইন জারির পরেও শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড়। এই ধর্মঘটের জেরে মুম্বইয়ের প্রায় ২৩ লক্ষ যাত্রী এবং দক্ষিণ মুম্বইয়ের ১০ লক্ষের বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার সকাল থেকেই মুম্বইয়ের বিভিন্ন ডিপো থেকে বাস বের না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসযাত্রী ও পড়ুয়ারা। বান্দ্রা-কুর্লা কমপ্লেক্স (BKC), কুর্লা, বান্দ্রা, দক্ষিণ মুম্বই এবং পূর্ব শহরতলির মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে এমএমআরডিএ (MMRDA) যখন বিকেসিতে ‘ফ্রাইডে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ডে’ পালন করে ব্যক্তিগত গাড়ি বর্জনের ডাক দিয়েছে, ঠিক সেই দিনেই বাসের এই অভাব সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

যাত্রীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে প্রশাসন কুর্লা থেকে বান্দ্রার রুটে ১২টি অতিরিক্ত বাস এবং ‘চলো প্রিমিয়াম’-এর ১০৪টি বাস চালু রাখলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। কিন্তু কেন এই চরম পদক্ষেপ? ইউনিয়নগুলোর প্রধান দাবি হলো বেস্টের বাজেটকে বিএমসি (BMC)-এর মূল বাজেটের সঙ্গে পুরোপুরি বিলীন করা। বর্তমানে বেস্টের নিজস্ব বাসের সংখ্যা মাত্র ২৪৩টি, বাকি সব বাসই ওয়েট-লিজ বা চুক্তির ভিত্তিতে চলে। ইউনিয়নগুলোর দাবি, এই ঠিকা প্রথা বন্ধ করে অন্তত ৫,০০০ নতুন বাস কিনতে হবে এবং ওয়েট-লিজ কর্মীদের স্থায়ী করতে হবে। পাশাপাশি, ২০২২ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া পাওনা মেটানো এবং সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এরিয়রসহ বেতন প্রদানের দাবিও তারা জানিয়ে আসছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেস্টের মহাব্যবস্থাপক সোনিয়া সেঠি জানিয়েছেন, মেসমা আইন অনুযায়ী কর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং ধর্মঘটে অংশ নিলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ইউনিয়নগুলোর দাবি, শিল্প আদালত আলোচনার নির্দেশ দিলেও বেস্ট ম্যানেজমেন্ট কোনো সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। যদিও এই ধর্মঘটে কিছুটা বিভাজন রয়েছে। শশাঙ্ক রাওয়ের নেতৃত্বাধীন ‘বেস্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’ এই আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছে এবং তাদের বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে বাণিজ্যনগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এখন অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *