“দড়ি দিয়ে বেঁধে পেটানো হয়েছে!”-স্বামীর মরদেহে রক্তের দাগ দেখে বিস্ফোরক প্রাক্তন কাউন্সিলর স্ত্রী

পুলিশি হেফাজতে এক তৃণমূল নেতার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায়। মৃত ওই নেতার নাম বীরজু কেওট। তিনি স্থানীয় তৃণমূল কর্মী এবং কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ, পুলিশি নির্যাতনে এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করার ফলেই মৃত্যু হয়েছে বীরজুর। যদিও সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
কাঁচরাপাড়ায় ঠিক কী ঘটেছিল?
পরিবার সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকালে তোলাবাজি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বীরজুকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বীরজু কেওট। তাঁকে দ্রুত কল্যাণীর জেএনএম (JNM) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
‘দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর’, বিস্ফোরক অভিযোগ স্ত্রীর
মৃতের স্ত্রী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের দাবি, ঘটনার রাতে প্রায় ৯টা নাগাদ তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং সেই সময় বীরজু সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। কিন্তু তার পরেই পুলিশ হেফাজতে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
জেনি দেবীর অভিযোগ, তদন্তকারী আধিকারিকরা বীরজুকে অমানবিক মারধর করেন এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে তাঁকে পেটানো হয়। এমনকি তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে মৃত্যু হলেও পুলিশ সেই খবর সময়মতো পরিবারকে জানায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। নিহতের স্ত্রীর দাবি, বীরজুর মরদেহের বিভিন্ন জায়গায় স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ রয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নিশানা
বীরজুর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মূল প্রশ্ন, যে ব্যক্তির নাম মূল এফআইআরেই ছিল না, তাঁকে কেন পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলো?
অভিষেক উল্লেখ করেন, পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর কোনও নাগরিক যদি সুস্থ শরীরে আর বাড়ি ফিরতে না পারেন, তবে তা আর কেবল আইনশৃঙ্খলার গণ্ডিতে সীমিত থাকে না, সরাসরি ‘রুল অফ ল’ বা আইনের শাসনের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয়। পুলিশ যদি সাধারণ মানুষের সুরক্ষার বদলে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে মানুষ কার ওপর ভরসা করবে—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস জানিয়েছেন, মৃত বীরজু স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তবে এই মৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত সত্য কী, তা জানতে পুঙ্খানুপুঙ্খ পুলিশি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা অমিত গুপ্ত এই মৃত্যুকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।