নিউইয়র্কে কোটিপতি CEO, তবুও বিয়ের পিঁড়িতে না বসায় দাদির কাছে ‘ব্যর্থ’ নাতনি! ভাইরাল পোস্ট

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছান বা কোটি কোটি টাকার মালিক হোন না কেন, চিরাচরিত ভারতীয় পরিবারগুলোতে বিয়ের বিষয়টি সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সম্প্রতি এই চিরন্তন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন নিউ ইয়র্ক নিবাসী সফল ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা হেমাক্ষী মোটকা। নিউ ইয়র্কে নিজের কোটি টাকার কোম্পানির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সম্প্রতি ৪২ কিলোমিটারের ম্যারাথনও শেষ করেছেন—কিন্তু তার এই সব অর্জন ম্লান হয়ে গেছে তার দাদির কাছে। কারণ, তিনি তার দাদিকে একটি ‘ফ্রি কম্বল’ কিনে দিতে পারেননি!
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @hemakshi126-এ হেমাক্ষী একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে তার হোমটাউনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে শহরের সকল বিবাহিত নারীদের সম্মান জানাতে বিনামূল্যে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছিল। হেমাক্ষীর দাদি খুব উৎসাহ নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাকে খালি হাতে ফিরতে হয়। কারণটা ছিল অদ্ভুত—কম্বল শুধুমাত্র বিবাহিত নারীদেরই দেওয়া হচ্ছিল।
দাদি এই ঘটনায় এতটাই ক্ষুব্ধ ও দুঃখিত ছিলেন যে, নিউ ইয়র্কে থাকা তার সিইও নাতনিকে তিনি রীতিমতো শুনিয়ে দিয়েছেন। হেমাক্ষী মজার ছলে ভিডিওতে বলেন, “আমি এখানে কোটি ডলারের ব্যবসা সামলাচ্ছি, ম্যারাথনে দৌড়াচ্ছি, কিন্তু ভারতের একটি সরকারি কম্বলের সামনে আমার সব ডিগ্রি ও ক্যারিয়ার ব্যর্থ হয়ে গেল।”
তবে এই হাসি-মজা আর হাস্যরসের আড়ালে হেমাক্ষী একটি অত্যন্ত গভীর ও সংবেদনশীল বার্তা দিয়েছেন। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, সমাজ আজও নারীর সফলতাকে তার বিবাহিত জীবনের মানদণ্ডে পরিমাপ করে। বিয়ে হওয়া বা কোনো পুরুষের দ্বারা নির্বাচিত হওয়াকেই নারীর জীবনের সর্বোচ্চ জয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
কিন্তু হেমাক্ষীর মতে, নারীর প্রকৃত শক্তি তার নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করা, ঝুঁকি নেওয়া এবং নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে অর্থ উপার্জন করার মধ্যে নিহিত। তিনি লিখেছেন, “কম্বল পাওয়া অবশ্যই ভালো বিষয়, কিন্তু নিজের আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতাই জীবনের প্রকৃত সম্পদ।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটজনতারা মজার সব মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, “এমন একটা অনুষ্ঠান রাখা উচিত যেখানে শুধুমাত্র অবিবাহিত মেয়েদের কম্বল দেওয়া হবে, তাহলেই সব হিসাব বদলে যাবে!” আরেকজন দাদির পক্ষ নিয়ে বলেছেন, “দাদির দোষ নেই, তিনি অন্য সময়ের মানুষ।” সবমিলিয়ে, হেমাক্ষীর এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আজ ক্যারিয়ার বনাম সামাজিক প্রত্যাশার এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।