রান্নাঘরের নতুন ‘ম্যাজিক’! কাউন্টারটপই এখন চুলা, হাত দিলেও পুড়বে না ত্বক; জানুন রহস্য

মডুলার কিচেনের দুনিয়ায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। দেখতে হুবহু কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো। রান্নাঘরের মার্বেল বা গ্রানাইট পাথরের কাউন্টারটপের ওপর হাত রাখলে আপনি কোনো তাপই অনুভব করবেন না, অথচ সেই জায়গাতেই রাখা পাত্রে টগবগ করে ফুটছে খাবার! এই প্রযুক্তির নামই হলো ‘ইনভিজিবল ইন্ডাকশন’ বা অদৃশ্য উনুন। ### কীভাবে কাজ করে এই ‘ম্যাজিক’?
সাধারণ ইন্ডাকশন কুকটপের মতো এতে কোনো কাচের প্যানেল বা আলাদা বার্নার থাকে না। রান্নার মূল হিটিং কয়েলটি পাথরের স্ল্যাবের ঠিক নিচেই গোপন অবস্থায় থাকে। এটি মূলত একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) তৈরি করে।
সিলিকন প্যাডের কারসাজি: রান্না করার সময় কাউন্টারটপের নির্দিষ্ট জায়গায় একটি মোটা সিলিকন প্যাড রাখা হয়। এটি একদিকে যেমন পাথরকে দাগ বা স্ক্র্যাচ থেকে বাঁচায়, অন্যদিকে পাত্রটিকে সঠিক জায়গায় বসাতে সাহায্য করে।
সরাসরি পাত্র গরম: স্টিল বা লোহার পাত্র সিলিকন প্যাডের ওপর রাখলে চৌম্বক ক্ষেত্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি পাত্রের ধাতব অণুর মধ্যে কম্পন তৈরি করে খাবার গরম করে। মজার বিষয় হলো, চারপাশের পাথর বা বাতাস একেবারেই গরম হয় না, শুধু পাত্রটিই উত্তপ্ত হয়। তাই হাত লাগলেও পুড়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই।
কেন এটি আধুনিক রান্নাঘরের সেরা পছন্দ?
মিনিমালিস্টিক লুক: বার্নার বা নব না থাকায় রান্নাঘর অনেক বেশি ছিমছাম, পরিচ্ছন্ন এবং বড় দেখায়।
সহজ পরিচ্ছন্নতা: সারফেস একদম সমতল হওয়ায় রান্নার শেষে পরিষ্কার করা খুবই সহজ।
মাল্টি-পারপাস: রান্না শেষ হয়ে গেলে ওই একই স্ল্যাব ব্যবহার করা যায় ডাইনিং টেবিল বা কাজের জায়গা হিসেবে।
খরচ ও সীমাবদ্ধতা
এই প্রযুক্তিটি বর্তমানে যথেষ্ট বিলাসবহুল। সব ধরনের পাথরে এই সিস্টেম বসানো সম্ভব নয়, এর জন্য বিশেষ ধরনের কাউন্টারটপ প্রয়োজন হয়। রেগুলার ইন্ডাকশনের তুলনায় এর খরচ বেশ খানিকটা বেশি। ভারতীয় বাজারে এই প্রযুক্তির দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৭৫,০০০ টাকা থেকে।
যদিও আপাতত এটি সবার সাধ্যের মধ্যে নয়, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এর জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে, তাতে খুব দ্রুতই এই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের হেঁশেলেও জায়গা করে নেবে বলে আশা করছেন কিচেন ডিজাইনাররা।