শান্তি চুক্তির ছোঁয়ায় ক্রিপ্টো বাজারে চাঙ্গা ভাব, ৬৫,৪০০ ডলার ছুঁল বিটকয়েন

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারে তার প্রতিফলন স্পষ্ট। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার, যা কয়েকদিন আগেও ব্যাপক অস্থিরতার মুখে পড়েছিল, তা যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। সোমবার এশীয় বাজারের প্রাথমিক লেনদেনে বিটকয়েনের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ৬৫,৪০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির ঘোষণা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার সাহস জোগাচ্ছে। এর আগে ব্যাপক বিক্রির চাপে বিটকয়েনের দাম ৬০,০০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে সর্বনিম্ন ছিল। শান্তি চুক্তির ফলে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস পাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা শেয়ার ও ক্রিপ্টো বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত বয়ে এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মত
ডিজিটাল অ্যাসেট প্ল্যাটফর্ম Pi42-এর সিইও অবিনাশ শেখর জানিয়েছেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিটকয়েনের ৬৫,০০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান এর অন্তর্নিহিত শক্তিরই পরিচয়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক কেনাকাটা এবং মাইনিং জটিলতা কমে আসা এই ঊর্ধ্বগতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে বিটকয়েনের পরবর্তী বাধা হিসেবে ৬৬,০০০ ও ৬৭,০০০ ডলারের স্তরটি গুরুত্বপূর্ণ।

ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের ওপর নজর
যদিও বাজার আপাতত ইতিবাচক, তবুও বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের আসন্ন নীতি নির্ধারণী বৈঠক নিয়ে। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বাজারে অর্থের প্রবাহ কেমন হবে। যদি সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে বেশি রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তবে ক্রিপ্টো বাজার আবারও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
বর্তমান বাজারে অস্থিরতা এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

ধাপে ধাপে বিনিয়োগ: এককালীন বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিবর্তে কিস্তিতে বা এসআইপি (SIP) মডেলে বিনিয়োগ করা নিরাপদ।

মৌলিক ভিত্তি: কেবল শক্তিশালী ফান্ডামেন্টাল বা প্রযুক্তিগত ভিত্তি রয়েছে এমন ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপরই নজর রাখা উচিত।

বাজার কোলাহল থেকে সতর্কতা: বাজারে নানা গুজব বা কোলাহল থাকলেও তা এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দিকে নজর রাখা জরুরি।

সামগ্রিকভাবে, অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় ক্রিপ্টো ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারের পথে—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে ওয়াজিরএক্স-এর সর্বশেষ মার্কেট রিপোর্ট। তবে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে বিশ্ববাজার।