পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি কমছে? আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর পতনে বড় স্বস্তির আশা!

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মেঘ কেটে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় পতন দেখা দিয়েছে। সোমবারের লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩.৭৫ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ৮০.৮৭ ডলারে নেমে এসেছে। এই ঘটনা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানির দাম কমার নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পালা
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সরকার বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পশ্চিম এশীয় সংকটের সময় যখন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছুঁয়েছিল, তখন তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো গ্রাহকদের ওপর সম্পূর্ণ বোঝা চাপায়নি। ফলে সংস্থাগুলোর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা বাড়ানোর পর, এখন সংস্থাগুলো সেই আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সরকার কী ভাবছে?
সরকার সরাসরি দাম কমানোর বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও, পরিস্থিতির উন্নতির দিকে নজর রাখছে। সূত্র জানাচ্ছে, অপরিশোধিত তেলের দাম যদি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকে এবং সংস্থাগুলোর লোকসান পূরণ হয়, তবে অবশ্যই সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দর দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী থাকলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন।
কতটা দাম কমতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম যদি আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
আমদানি খরচই আসল চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে পেট্রোলের ওপর আবগারি শুল্ক এমনিতেই কম রয়েছে (ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রায় শূন্য), তাই শুল্ক ছাড়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক স্বস্তির সুযোগ খুব সীমিত। পাশাপাশি, ভারত তার চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি তেল আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও, রুপি-ডলার বিনিময় হার এবং উচ্চ বীমা ও মাল পরিবহন খরচের কারণে আমদানি ব্যয় এখনও চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর সরকার নজর রাখছে। আকাশ পরিষ্কার হলে অর্থাৎ তেলের দাম স্থিতিশীল হলে, সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি ফিরবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।