NCPI-এর অন্দরেই ধোঁয়াশা! সভাপতি কে? সাংসদদের যোগদানের খবর শুনে অবাক প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা

বাংলার রাজনীতিতে হঠাৎই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে NCPI (National Congress Party of India) নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দিয়েছেন বলে খবর ছড়াতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। তবে এই যোগদান নিয়ে দলের ভেতর থেকেই উঠে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও বিভ্রান্তি।

প্রতিষ্ঠাতার ইস্তফা ও নেতৃত্বের জটিলতা:
দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও আইনজীবী শিউলি কুণ্ডু জানিয়েছেন, তিনি মাসখানেক আগেই দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বর্তমানে দলের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি দলের বর্তমান সভাপতি কে, বা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না—এই প্রশ্নে শিউলি কুণ্ডু পুরোপুরি নীরবতা পালন করেছেন। অথচ, ত্রিপুরায় দলের অন্যতম নেতা জাহাঙ্গির আলি এখনও শিউলি কুণ্ডুকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করছেন।

নেতৃত্বের অন্ধকারে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা:
দলের নাম প্রস্তাবকারী শান্তনু দে জানিয়েছেন, রবিবার সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই তিনি তৃণমূল সাংসদদের যোগদানের কথা শুনেছেন। দলের অন্য প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উত্তীয় কুণ্ডুর সঙ্গেও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, “কারা দলে যোগ দিলেন এবং কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।”

হাওড়ার ঠিকানায় ঘনীভূত রহস্য:
হাওড়ায় অবস্থিত দলের রেজিস্টার্ড অফিসে সোমবার নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জানা গেছে, এই ঠিকানায় শুধু দলের অফিস নয়, একটি এনজিও এবং সংবাদপত্রের কার্যালয়ও রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা উত্তীয় ও শিউলি কুণ্ডুর মেয়ে দীপান্বিতা কুণ্ডু জানান, ২০২২ সাল থেকেই এই অফিসটি সক্রিয়। ২০২৩ সালে তিনি এই দলের হয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ত্রিপুরার নেতাদের বয়ান:
ত্রিপুরার নেতা জাহাঙ্গির আলি জানান, তাঁরা ২০২২ সালের শেষের দিকে তৃণমূলে থাকার পর NCPI-তে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনেও দল এখান থেকে প্রার্থী দিয়েছিল। তবে ২০ জন তৃণমূল সাংসদের যোগদানের বিষয়টি তিনিও কেবলমাত্র লোকমুখে শুনেছেন, দলের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাঁর কাছে নেই।

একদিকে ২০ জন সাংসদের দলবদল নিয়ে যখন বড়সড় জল্পনা চলছে, তখন দলের অন্দরের এই বিভ্রান্তি রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনাটি যে বাংলার রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে, তা নিশ্চিত।