‘ডাস্টার নয়, প্রয়োজন গঙ্গাজল!’ প্রাক্তন মন্ত্রীদের ব্যবহৃত ঘর নিয়ে অস্বস্তিতে বিজেপি মন্ত্রীরা

নবান্নের অন্দরে এখন আর কেবল ফাইলের খসখসানি শোনা যায় না, বরং তার সঙ্গে মিশেছে ধূপ-ধুনো আর মন্ত্রোচ্চারণের গন্ধ। নবান্নের ১০১ নম্বর ঘরে পা রেখেই রাজ্যের নতুন প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামার প্রতিক্রিয়া—‘‘ওরে বাবা, এই ঘরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বসতেন! তাহলে তো পুজো না করে ঢোকাই যাবে না!’’
‘ঐতিহাসিক’ চমক ও শুদ্ধিকরণ:
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবার নিজের বরাদ্দ ঘর পরিদর্শনে যান স্বরাষ্ট্র ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। কিন্তু ঘরের ইতিহাস জানতে পেরেই তাঁর পিলে চমকে যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি হওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রাক্তন অফিস ঘর দেখে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তড়িঘড়ি শাস্ত্র মতে পুজো-অর্চনা না করা পর্যন্ত এই ঘরে তিনি বসবেন না। তাঁর কথায়, ‘‘নতুন কিছু শুভ কাজ শুরুর আগে পুজো করা আমাদের রীতি। এখানে তো পূর্বতন মন্ত্রীর ‘কীর্তি’র ছায়া লেগে আছে!’’
ভীত পূর্ণিমা চক্রবর্তীও:
কেবল বিশাল লামাই নন, মন্ত্রীদের এই ‘আঁতকে ওঠার’ তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরের নতুন মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীও। পর্যটন দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এফআইআর রুজু হওয়ার পর, পূর্ণিমা দেবী দফতরে ঢুকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, “চেয়ারটা কি একটু বদলে দেওয়া যাবে?” তাঁর সাফ কথা ছিল, ‘‘যিনি আগে ছিলেন, অনেক কীর্তি ঘটিয়েছেন। তাই ওই চেয়াবে আমি বসব না।’’
রাজনৈতিক চর্চা:
বিজেপি নেতারা নির্বাচনের আগে ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলা’ গড়ার স্লোগান দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন নবান্নের অন্দরের ছবিটা যেন কিছুটা অন্যরকম। রাজনৈতিক মহলে এখন জোর জল্পনা, নতুন মন্ত্রীরা প্রশাসনিক কাজে মন দেওয়ার চেয়ে বর্তমানে ‘বাস্তু দোষ’ কাটাতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। রাতারাতি নবান্নের আবহাওয়া যেন বেশ ‘আধ্যাত্মিক’ হয়ে উঠেছে। ফাইল সই করার আগে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ঘর পবিত্র করার এই প্রবণতা কি নতুন সরকারের সংস্কারের ইঙ্গিত, নাকি প্রাক্তনদের ‘দুর্নীতি’র ভীতি—তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।