দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার! বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্য সরকারের অনুদান নীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর এ বছর ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলি আগের মতো সরকারি আর্থিক সাহায্য পাবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে তাঁর অবস্থানের কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ও নতুন সম্ভাবনা:
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাঁর কথায়, “যেসব পুজো কমিটির সরকারি অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের অনুদান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” অর্থাৎ, সরকার এবার অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ছাঁটাই বা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তবে তিনি এও আশ্বাস দিয়েছেন যে, যেসব ক্লাব আর্থিক সমস্যার কারণে পুজো পরিচালনায় সমস্যায় পড়বে, তাদের পাশে সরকার অবশ্যই থাকবে।

অনুদান নীতিতে বদলের ইঙ্গিত:
গত কয়েক বছরে হাজার হাজার ক্লাবকে বিপুল পরিমাণ সরকারি অনুদান দেওয়া হতো। তবে বিজেপি সরকারের অন্দরে একাংশের মত, পুজোর অনুদানের এই বিপুল অর্থ উন্নয়নের অন্য কোনো উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা হলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ বেশি উপকৃত হবে। ফলে সরাসরি অনুদান দেওয়ার পুরনো পদ্ধতি বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে জোর আলোচনা চলছে। যদিও এখনও সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়নি, তবে পুজো কমিটিগুলোর মধ্যে অনুদান পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ খানিকটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পুজোয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চমক:
অনুদান নীতিতে পরিবর্তনের গুঞ্জনের পাশাপাশি বিজেপি সরকারের প্রথম দুর্গাপুজোকে ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে প্রস্তুতি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎসবকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে এবং বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, পুজোর দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর মতো শীর্ষ নেতাদের কলকাতায় আনার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এমনকি অষ্টমীর অঞ্জলিতে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে।

সব মিলিয়ে, অনুদান নিয়ে যেমন নতুন হিসেব-নিকেশ শুরু হয়েছে, তেমনই উৎসবের মরশুমকে ঘিরে বড় কোনো চমক দিতে তৈরি হচ্ছে নতুন সরকার।