বাবার হাতেই সম্ভ্রমহানি, তবুও হার মানেনি মেয়ে! বেঙ্গালুরুতে দোষী বাবাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড আদালতের

এক অমানবিক ও ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল বেঙ্গালুরু। যে বাবার হাতে সুরক্ষিত থাকার কথা ছিল, সেই বাবাই মাত্র ১৬ বছর বয়সী মেয়ের বিশ্বাস ভঙ্গ করে তার মর্যাদা কেড়ে নিয়েছিল। এমনকি মায়ের সমর্থন না পেয়েও একাই আইনি লড়াই চালিয়ে গেছে সেই মেয়ে। শেষ পর্যন্ত তার অদম্য সাহসিকতার কাছে হার মানল অভিযুক্ত বাবা। বেঙ্গালুরুর এক বিশেষ আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:
বিহার থেকে আসা ওই শ্রমিক পরিবারটি উত্তর বেঙ্গালুরুতে বসবাস করত। অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ এবং স্বভাবগতভাবে নিষ্ঠুর ছিলেন। নবম শ্রেণির পর ওই নাবালিকা মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এরপরই মেয়েটি উত্তরপ্রদেশে আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। ২০২৩ সালের জুন মাসে পরিবারের সাথে বিহারে নানির শেষকৃত্যে যাওয়ার পর, বাবা তাকে আর বিয়ে দেওয়ার চাপ দেবেন না বলে আশ্বস্ত করেন। সেই কথায় বিশ্বাস করে মেয়েটি বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসে।

সেই নৃশংস রাত:
২০২৩ সালের ২৭শে জুন রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকার মিথ্যা সন্দেহ করেন অভিযুক্ত। এই ‘তদন্ত’-এর অজুহাতেই তিনি নিজের মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। বাবা বাড়ি থেকে বের হতেই সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মেয়েটি পালিয়ে পাশের পার্কে লুকিয়ে রাত কাটায়। পরদিন সকালে অটো চালকের সাহায্য নিয়ে সে থানায় গিয়ে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।

পরিবারের একাংশের অসহযোগিতা:
পুলিশ ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং মেয়েটিকে সরকারি মহিলা আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সবথেকে দুর্ভাগ্যজনক ছিল পরিবারের প্রতিক্রিয়া। মায়ের কাছে বিচার পাওয়ার বদলে মেয়েটিকে উল্টো তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হয়। পরিবার তাকে পুরোপুরি একঘরে করে দেয়। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে তিন বছর ধরে একাই আইনি লড়াই চালিয়ে যায় মেয়েটি।

আদালতের রায়:
টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের সমস্ত সাক্ষী ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক অভিযুক্তকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১.১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছে।

বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী সেই সাহসী মেয়েটি স্বাবলম্বী। সে দর্জির কাজ করে অত্যন্ত সম্মানের সাথে নিজের জীবিকা নির্বাহ করছে। তার এই অদম্য জেদ ও সাহস আজ সমাজের চোখে এক দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।