TATA-দের ফেরাতেই হবে! সিঙ্গুর নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠী এবং শিল্পায়ন—গত দেড় দশকের বাংলা রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। রাজ্যের পালাবদলের পর সেই সিঙ্গুর ও টাটাদের ফেরানোই এখন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। শুক্রবার নিউটাউনের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, দুজনেই টাটাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁদের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন।
সিঙ্গুরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ: সিঙ্গুরের জমি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন অত্যন্ত বাস্তববাদী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “টাটাকে এখানে আনবই। তবে বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।” তিনি জানান, বিগত সরকার সিঙ্গুরের জমির মালিকানা কৃষকদের ফিরিয়ে দিলেও, সেই জমি আজ চাষের অনুপযুক্ত। টাটাদের কারখানা নির্মাণের সময় যে রড ও সিমেন্টের মিশ্রণ মাটির নিচে মিশে গিয়েছিল, তার ফলে সেখানে আলু, ধান বা মাছ চাষ—কোনোটাই সম্ভব হচ্ছে না। জমি আজ আক্ষরিক অর্থেই ‘বন্ধ্যা’ হয়ে পড়ে আছে।
শিল্প সচীবের নেতৃত্বে বিশেষ টিম: মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করতেই সরকার বদ্ধপরিকর। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকৃত বিনিয়োগকারী কারা আর কারা শুধুমাত্র ফুলের তোড়া নিয়ে ছবি তুলতে আসছেন, তা যাচাই করতে তিনি শিল্প সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করেছেন। শিল্প দফতরের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তাপস রায়ও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আমার প্রথম কাজই হলো টাটাদের ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি যে ৬ হাজার ৬৮৮টি কারখানা গত ১৫ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে, সেই শিল্পপতিদেরও ফেরানো আমাদের অগ্রাধিকার।”
বাজেটেই কি বড় ঘোষণা? আগামী বাজেটে শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি সরকারের লক্ষ্য, শুধুমাত্র সিঙ্গুর নয়, সারা রাজ্যজুড়েই এক শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। তাপস রায়ের কথায়, “সিঙ্গুর হোক বা অন্যান্য এলাকা—যেখানে শিল্প মরে গেছে, সেখানে প্রাণ ফেরানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: এক সময় সিঙ্গুর আন্দোলনই ছিল বাম সরকারের পতনের প্রধান কারণ। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এলেও সিঙ্গুরে কোনো বৃহৎ শিল্প গড়ে ওঠেনি, উল্টে কৃষিও মার খেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি সরকারের এই উদ্যোগ কি সত্যিই টাটাদের ফেরাতে সক্ষম হবে? নাকি আইনি ও বাস্তব সমস্যার বেড়াজালে ঝুলে থাকবে সিঙ্গুরের ভবিষ্যৎ? সেদিকেই এখন তাকিয়ে শিল্পমহল ও সাধারণ মানুষ।