জেপ্টো, উবার, জোম্যাটোদের কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা! সময়সীমা বেঁধে কড়া বার্তা শ্রম মন্ত্রকের

সুইগি, জোম্যাটো, উবার, ওলা, ব্লিংকিট এবং জেপ্টোর মতো অ্যাপ-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলিতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ গিগ কর্মীর জন্য অত্যন্ত সুখবর। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক এবার এই সমস্ত প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের কর্মীদের ই-শ্রম (e-Shram) পোর্টালে নিবন্ধন করার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২১শে জুনের মধ্যে এই একীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার।

কেন এই পদক্ষেপ?
দীর্ঘদিন ধরে গিগ কর্মীরা অসংগঠিত অর্থনীতির অংশ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন, যার ফলে তাঁদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো ছিল না। নতুন এই নিয়মাবলি কার্যকর হলে কর্মীদের একটি বড় ডেটাবেস তৈরি হবে, যা সরকারকে স্বাস্থ্য বীমা, জীবন বীমা এবং পেনশন প্রকল্পের মতো কল্যাণমূলক সুবিধা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। এছাড়া, এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মীরা একটি অনন্য জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন, যা এই পেশাকে আরও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে।

নিয়ম ও জরিমানা:
নতুন বিজ্ঞাপিত নিয়ম অনুযায়ী:

কর্মী হিসেবে গণ্য: যিনি বছরে অন্তত ৯০ দিন কোনো একটি অ্যাগ্রিগেটরের সাথে অথবা একাধিক প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে মোট ১২০ দিন কাজ করেন, তিনিই ‘গিগ বা প্ল্যাটফর্ম কর্মী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

দায়বদ্ধতা: কোম্পানিগুলোকে (অ্যাগ্রিগেটর) একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালে রিয়েল-টাইম বা দৈনিক ভিত্তিতে নতুন কর্মী নিয়োগ বা অব্যাহতির তথ্য নিয়মিত আপডেট করতে হবে।

কড়া বার্তা: মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, ২১শে জুনের মধ্যে এই নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হলে সামাজিক সুরক্ষা আইন অনুযায়ী অ্যাগ্রিগেটরদের ওপর জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রমিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া:
ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স (IFAT)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা শেখ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, এতদিন বহু অ্যাগ্রিগেটর সরকারের আগের নির্দেশাবলীকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু শ্রমিকদের কল্যাণের স্বার্থে এবার আর কোনো বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না। অ্যাগ্রিগেটরদের অবশ্যই আইন মেনে কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত গিগ অর্থনীতির সাথে যুক্ত লক্ষ লক্ষ কর্মীর জীবনে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।