‘দিদিকে ছেড়ে যাব না’, মমতার ভরসার মর্যাদা দেবেন শত্রুঘ্ন, জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলেন কড়া বার্তা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো ঘিরে যে রাজনৈতিক জল্পনা দানা বেঁধেছিল, তা অবশেষে উড়িয়ে দিলেন আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিন্হা। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়ার যাবতীয় গুঞ্জন নস্যাৎ করে দিয়ে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ স্পষ্ট জানালেন, তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন।
কী নিয়ে বিতর্ক?
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার প্রশংসা করে সামাজিক মাধ্যমে একটি শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছিলেন শত্রুঘ্ন সিন্হা। সেই পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখ থাকায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। তৃণমূলের অন্দরে চলা অস্থিরতার আবহে অনেকে ভেবেছিলেন, বর্ষীয়ান এই সাংসদ হয়তো কোনো বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছেন।
কী বললেন শত্রুঘ্ন?
সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে বৃহস্পতিবার শত্রুঘ্ন সিন্হা বলেন, “আমাকে নিয়ে অনেক কিছু বলা হচ্ছে। রটানো হচ্ছে আমি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত। এসবের কোনো ভিত্তি নেই।” দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি জানান, প্রতিকূল সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আসানসোল থেকে নির্বাচনে লড়ার অনুরোধও এসেছিল খোদ নেত্রীর তরফ থেকেই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
দীর্ঘদিন বিজেপিতে কাটিয়ে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে পরে মতপার্থক্যের কারণে দল ছাড়েন শত্রুঘ্ন সিন্হা। ২০২২ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর আসানসোল উপনির্বাচনে জয়ী হন তিনি। পরবর্তীতে লোকসভা নির্বাচনেও এই আসন ধরে রাখেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনার মধ্যে শত্রুঘ্নর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, মমতার নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা অটুট।
তৃণমূলের অন্দরে যখন নানামুখী সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, সেই সময়ে বর্ষীয়ান এই সাংসদের অবস্থান স্পষ্ট হওয়াটা দলনেত্রীর জন্য অনেকটা স্বস্তির খবর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।