আশ্রয় দেওয়ার নামে নরকবাস! জেঠুর কারখানার কর্মীর লালসার শিকার নাবালিকা, ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

বাবা-মা হীন অনাথ নাবালিকাকে আশ্রয় দেওয়ার নাম করে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন নিঃসন্তান জেঠু ও জেঠিমা। কিন্তু সেই আশ্রয়ই যে ১৪ বছরের কিশোরীর জীবনে অভিশাপ হয়ে আসবে, তা কে জানত! ওই কিশোরীকে জেঠুর কারখানার এক কর্মীর দ্বারা দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই নাবালিকা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় জেঠু ও কারখানার কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ
নির্যাতিতার দাদার অভিযোগ, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর বোন মামাবাড়িতে থাকত। সেখান থেকে জেঠু-জেঠিমা তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। জেঠুর গিটার তৈরির কারখানা রয়েছে, সেখানেই কাজ করত ৫৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত কর্মী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে আশ্রয় দেওয়ার আড়ালে বাড়ির পরিচারিকার মতো খাাটানো হতো। শুধু তাই নয়, ওই কর্মীর সঙ্গে তাকে একই ঘরে রাখা হতো বলে অভিযোগ। এরই সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত কর্মী নাবালিকাকে ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন চালিয়েছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ
ঘটনাটি জানাজানি হতেই কল্যাণীর ওই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জেঠুর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার মহিলা মোর্চার নেত্রী তানিয়া ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, “চাকু দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। নির্যাতিতার দাদাকে না জানিয়েই তাকে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।”

পুলিশি পদক্ষেপ
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণী থানার পুলিশ। পুলিশি তদন্তে জেঠু এবং কারখানার ওই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নাবালিকার জেঠিমা বর্তমানে পলাতক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতিতা নাবালিকাকে হোমে রাখার পরামর্শ দেওয়া হলেও, মেয়েটি সেখানে যেতে রাজি নয় বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

এক অনাথ শিশুর প্রতি জেঠু-জেঠিমার এমন অমানবিক আচরণ ও চরম অবহেলার ঘটনা সমাজকে নতুন করে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করাল।