দিদির বাড়িতে সিআইডি তল্লাশি! আইন দেখিয়ে বচসায় জড়ালেন শুভাশিস, কে এই নেতা?

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের দিল্লি সফরের সুযোগে এক নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবন। মঙ্গলবার তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডি (CID) অফিসাররা তল্লাশি চালাতে এলে তাঁদের সামনে একাই ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। দলত্যাগের হিড়িকে যখন তৃণমূলের অনেক বড় বড় নেতা দিশাহারা, তখন শুভাশিসের এই দৃঢ় অবস্থান রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রে।
কী ঘটেছিল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে ব্যস্ত। সেই সুযোগে সিআইডি আধিকারিকরা তল্লাশির জন্য পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করার পর বেরিয়ে আসেন শুভাশিস চক্রবর্তী। সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। শুভাশিস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে আমি কাউকে ঢুকতে দেব না।” নিজেকে আইনের ছাত্র এবং ৪০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি সিআইডি-র তল্লাশি প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানান।
কে এই শুভাশিস চক্রবর্তী?
শুভাশিস চক্রবর্তী তৃণমূলের সেই পুরনো দিনের কর্মীদের অন্যতম, যিনি শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী।
-
দীর্ঘদিনের সঙ্গী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যাদবপুর থেকে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে প্রথমবার সাংসদ হন, সেই সময় থেকেই কুঁদঘাট-বেহালা অঞ্চলে তাঁর অন্যতম অনুগামী ছিলেন শুভাশিস।
-
সংগঠক হিসেবে দক্ষতা: শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সমসাময়িক হলেও শুভাশিস কখনও মিডিয়া-প্রিয় বা ‘ক্যারিশ্মাটিক’ নেতার তকমা পাননি। কিন্তু দলের অন্দরে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি পরিচিত।
-
দলের প্রতি নিষ্ঠা: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অন্য কোনো দল নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়েই কাজ করে গিয়েছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী একজন কাউন্সিলর। পরবর্তীতে দল তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিল। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও, দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যে কোনো ভাঁটা পড়েনি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
যখন একের পর এক নেতা তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন বা দলের দুর্দিন দেখে সুর পাল্টাচ্ছেন, তখন শুভাশিসের এই ‘রক্ষাকর্তা’ হয়ে ওঠা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। নেত্রী ও দলের সংকটকালীন মুহূর্তে একদা অনুগত এই নেতার দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূলের অন্দরে এক নতুন বার্তা দিল বলেই মনে করছেন অনেকে।