তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে ১০ তারিখ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

তোলাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আলিপুর আদালত। বাপ্পাদিত্যের সহযোগী সৌরভ ঘোষকেও একই মেয়াদে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
কী অভিযোগ? ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের এক আইনজীবীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পাটুলি থানার পুলিশ বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগকারিণীর দাবি, কাউন্সিলর তাঁকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার পুনরাবৃত্তির ভয় দেখানো হয়।
আইনজীবীর চাঞ্চল্যকর দাবি: বিজেপির লিগ্যাল সেলের আইনজীবী পারমিতা দে-র অভিযোগ, তাঁকে কেবল হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি অভিযুক্তরা, শারীরিকভাবে মারধরও করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং তাঁকে সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার চেষ্টা হয়। পারমিতা দেবীর কথায়, “আমাকে গৃহ সহায়িকা রাখতে দেওয়া হয়নি, এমনকি রিকশাওয়ালারাও আমার বাড়ির সামনে আসতে ভয় পেত। বিভিন্নভাবে টর্চার করা হয়েছে আমাকে।”
আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে বিক্ষোভ: গতকাল পাটুলি থানা থেকে আলিপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন বাপ্পাদিত্য। গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। চরম নিরাপত্তার বলয়ে পুলিশ কোনোমতে কাউন্সিলরকে প্রিজন ভ্যানে তুলে আদালতে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে চাইছে পাটুলি থানা। তারা আর কার কার সাথে জড়িত এবং এই চক্রে আর কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।