দিল্লিতে মমতার জরুরি সফর! ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকের আগে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আশঙ্কা

বিধানসভার পর এবার কি সংসদীয় দলেও ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস? এই জল্পনা ও আশঙ্কার ঘনঘটার মধ্যেই সোমবার দিল্লিতে হতে চলা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে রাজধানীতে পৌঁছেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি: রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন উত্তাল। সম্প্রতি বিধানসভায় তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক দলবিরোধী অবস্থান নিয়ে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, দলের প্রায় ৫৮-৬০ জন বিধায়ক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। বিধানসভার পর এখন এই ভাঙনের ছায়া লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দিল্লি সফর ও রাজনৈতিক সমীকরণ: আগামী সোমবার দুপুর ১২টায় দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ঠিক ছিল রবিবার দুজনে একসঙ্গে দিল্লি যাবেন, কিন্তু তৃণমূল সূত্রের খবর, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নেত্রীর নির্দেশেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একদিন আগেই শনিবার দিল্লি পৌঁছেছেন। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দিল্লিতে পৌঁছান।
লড়াই এখন বহুবিধ: একদিকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদ্রোহী বিধায়কদের সামলানো, অন্যদিকে সংসদীয় স্তরে দলীয় ভাঙন ঠেকানো—সব মিলিয়ে চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে দলের ভেতরে শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বিরোধিতা করে একাধিক সাংসদের বেসুরো হওয়ার খবরও মিলেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন এবং দলের ভাঙন রুখতে কী রণকৌশল নেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা ভারতের রাজনৈতিক মহল।