সীমান্ত বিরোধে বড় বার্তা নেপালের! তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, সরাসরি আলোচনায় রাজি কাঠমান্ডু

ভারত-নেপাল সম্পর্কের নতুন মোড়! সীমান্ত সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের বার্তা দিলেন নেপালের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। রবিবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্ত বিরোধ মেটাতে নেপাল কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা চায় না। দুই দেশ সরাসরি ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম।

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও উন্নয়ন: তিন দিনের ভারত সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার পুরনো কোনো তিক্ততা বা ‘বোঝা’ নিয়ে সামনে এগোতে চায় না। নেপাল এখন একটি উদীয়মান ও শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “আমরা মানচিত্রের প্রতিবেশীই শুধু নই, আমরা একই নদীর সন্তান। আমাদের মধ্যে শত শত বছরের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধন রয়েছে।”

অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ওপর জোর: ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং ডিজিটাল অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন শিশির খানাল। তিনি জানান, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা (রাস্তা ও রেল), জ্বালানি সহযোগিতা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট।

  • ডিজিটাল সংযোগ: ভারতের এনপিসিআই (NPCI) এবং নেপালের এনসিএইচএল-এর মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশেই ইউপিআই (UPI)-এর সুবিধা চালু হচ্ছে, যা পর্যটন ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

  • উন্নয়নমূলক প্রকল্প: ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর ভারতের সহায়তায় নেপালে নির্মিত ৭২টি স্বাস্থ্য প্রকল্প এবং ১২টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হস্তান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

  • প্রযুক্তিগত সহযোগিতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের ডিজিটাল ইন্ডিয়া মিশনের মধ্যে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সীমান্ত ইস্যু ও কূটনৈতিক তৎপরতা: কালাপানি-লিপুলেখ-লিম্পিয়াধুরা সীমান্ত নিয়ে চলা বিতর্কের প্রেক্ষাপটে শিশির খানালের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নেপাল বর্তমানে কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অন্যান্য দেশের কাছে কোনো নথিপত্র পাওয়ার প্রয়োজন হলেও, তা হবে সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অংশ।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খানাল। সব মিলিয়ে, ভারত ও নেপালের এই নতুন উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।