তৃণমূলের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা! মালদায় ইশা খান চৌধুরীর শর্তে তৈরি নতুন জল্পনা

রাজ্যে তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতার আবহে এবার দলবদল নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন মালদা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী। রবিবার জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ‘হায়াত ভবনে’ সাংবাদিক বৈঠকে ইশা সাফ জানান, সততা বজায় রাখা তৃণমূল কর্মীদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা থাকলেও, দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের জন্য সেই দরজা চিরতরে বন্ধ।

তৃণমূল নেতাদের ফোনে নাজেহাল নেতৃত্ব: ইশা খান চৌধুরী এদিন দাবি করেন, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ধরেছে এবং মালদার ব্লকস্তর থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের একাধিক জনপ্রতিনিধি কংগ্রেসে যোগদানের জন্য তাঁকে নিয়মিত ফোন করছেন। যদিও এই দলবদল নিয়ে ইশা কিছুটা সতর্ক। তিনি বলেন, “সংখ্যা বাড়াতে আমরা আগ্রহী নই, আমরা গুণমান (কোয়ালিটি) দেখে নেতা নেব। তৃণমূলের যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করেছেন বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের আমরা দলে নেব না। নতুনদের জন্য আমরা কিছু কঠিন শর্ত রেখেছি, সেই শর্ত পূরণ করলেই তবেই কংগ্রেসের পতাকা হাতে নিতে পারবেন।”

পুরসভা নিয়ে রহস্য: মালদার দুই পুরসভা—ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা থাকলেও, ইশা খান চৌধুরী তা নিয়ে মুখ খোলেননি। সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, “কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন, দেখবেন বোর্ড কোন দিকে যায়।” তাঁর এই মন্তব্যে পুরসভার দখল বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি: দলবদলের পাশাপাশি এদিন এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হন ইশা। মালদা জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইশার কথায়, “নামের বানানে ভুল বা ছোটখাটো কারণে যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তাঁরা সবাই এদেশেরই মানুষ। ট্রাইবুনালে বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় তাঁরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই সমস্যার সমাধান না হলে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করবেন এবং বিষয়টি সংসদেও তুলবেন।

ইশা খান চৌধুরীর এই বার্তা তৃণমূলের অন্দরে কতটা প্রভাব ফেলে এবং কতজন তৃণমূল নেতা শেষ পর্যন্ত শর্ত মেনে কংগ্রেসে নাম লেখান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।