সোনা ও রুপার দামে বড়সড় ধস! আগামী সপ্তাহে কি বাজার ঘুরে দাঁড়াবে? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত

গত সপ্তাহে সোনা ও রুপার দামে যে তীব্র পতন দেখা গেছে, তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয়—উভয় বাজারেই বিক্রির চাপে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম অনেকটা নিচে নেমেছে। তবে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন, আগামী সপ্তাহে কি বাজারে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা আছে?

গত সপ্তাহের বাজারের চিত্র: মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) আগস্ট ডেলিভারির সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৫,৩১৭ টাকা কমে ১.৫৫ লক্ষ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে, জুলাই ডেলিভারির রুপার দাম প্রতি কেজিতে ১৮,৪৬১ টাকা কমে ২.৪৮ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দর ৫% এবং রুপার দর ৯% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

আগামী সপ্তাহে বাজারের দিকে নজর: বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী সপ্তাহের গতিপথ মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে:

  • অর্থনৈতিক তথ্য: আমেরিকা, চীন এবং ভারতের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য (CPI) এবং খুচরা ব্যবসার পরিসংখ্যানের দিকে নজর থাকবে সবার। এই তথ্যগুলো সুদের হার সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেবে, যা বুলিয়ন বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

  • বিশ্ব পরিস্থিতি: পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ওঠানামা সোনার দরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: ইসিবি-র মুদ্রানীতি সংক্রান্ত ঘোষণাগুলো ডলারের মান এবং বন্ড ইল্ডকে প্রভাবিত করবে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে সোনার দামে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা: বাজার বর্তমানে পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে ‘সংশোধন’ (Correction) পর্যায়ে রয়েছে। শক্তিশালী ডলার এবং উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কার কারণে মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ বজায় থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম যদি প্রতি আউন্স ৪,৪০০-৪,৫০০ ডলারের নিচে থাকে, তবে এর ঊর্ধ্বগতি সীমিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের এখন তাড়াহুড়ো না করে অর্থনৈতিক ঘটনাবলী এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার ওপর নিবিড় নজর রাখা প্রয়োজন। আগামী সপ্তাহে বাজারের ট্রেন্ড দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।