ইন্ডিয়া জোটে বড় ফাটল? বিজেপির সাথে ‘সেটিং’ অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসকে কড়া চিঠি সিপিএমের

সোমবার ইন্ডিয়া জোটের হাই-ভোল্টেজ মহাবৈঠকের ঠিক আগেই বিরোধী শিবিরে তৈরি হলো বড়সড় অস্বস্তি। কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে বামেদের বিরুদ্ধে করা কংগ্রেস নেতৃত্বের মন্তব্যের জেরে সরাসরি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠালেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। এই চিঠি ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে—তবে কি ভাঙনের মুখে ইন্ডিয়া জোট?
চিঠিতে কী লিখলেন এম এ বেবি? জানা গিয়েছে, চিঠিতে এম এ বেবি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, কেরলের ভোটপ্রচারে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা বামেদের বিরুদ্ধে এক পরিকল্পিত ও ভিত্তিহীন কুৎসা অভিযান চালিয়েছিলেন। কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, সিপিআই(এম) এবং বিজেপি পর্দার আড়ালে সমঝোতা (সেটিং) করে কাজ করছে। শুধু তাই নয়, কেরলের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে ইডি (ED) বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে পদক্ষেপ করার দাবিও তুলেছিল কংগ্রেস।
কেন এই ক্ষোভ? সিপিআই(এম)-এর মতে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করার দাবি তোলা বা এ নিয়ে বারবার সরব হওয়াটা আদতে বিরোধী ঐক্যের মৌলিক ধারণার পরিপন্থী। এম এ বেবির দাবি, কংগ্রেসের এই রণকৌশল কেবল বামেদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা নয়, বরং তা দেশের বিরোধী শিবিরের ঐক্যকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
জোটের ভবিষ্যৎ কী? সোমবারের বৈঠকে বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলোকে একত্রিত করার ডাক দেওয়ার কথা রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনের ঠিক আগে বাম-কংগ্রেসের এই সংঘাত বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎকে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
একদিকে যখন বিরোধী জোট নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, তখন শরিক দলগুলোর মধ্যকার এই পারস্পরিক অনাস্থা যে তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, সোমবারের বৈঠকে এই তিক্ততা সামলাতে কোনো মধ্যস্থতার পথ বেরিয়ে আসে কি না।