‘ঋতব্রতর এত হিম্মত নেই’, তৃণমূল ভাঙা নিয়ে মহারাষ্ট্রের ‘শিন্ডে মডেল’-এর মিল পেলেন সঞ্জয় রাউত

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন ইনিংসের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙার নেপথ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই আঙুল তুললেন শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নন, বরং নেপথ্য থেকে কলকাঠি নেড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

কী বললেন সঞ্জয় রাউত?
এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় রাউত বলেন, “মমতাজির পার্টি ভেঙে যায়নি, বরং ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সঙ্গে রাজ্যসভায় দেড় বছর ছিলেন, ওর মধ্যে দল ভাঙার মতো হিম্মতই নেই।” সঞ্জয় রাউতের সংযোজন, “হঠাৎ করে ঋতব্রত নেতা হয়ে গেছেন। এত বিধায়ক জোগাড় করার ক্ষমতা তাঁর নেই। এর পিছনে রয়েছে পয়সার খেলা এবং বিজেপির পরিকল্পনা।”

মহারাষ্ট্রের ‘শিন্ডে মডেল’-এর ছায়া?
তৃণমূল ভাঙার এই ঘটনাকে অনেকেই মহারাষ্ট্রের সেই আলোচিত ‘শিন্ডে মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। এই বিষয়ে সঞ্জয় রাউতের মন্তব্য, “মহারাষ্ট্রের ঘটনা কি ভুলে গেছেন? একনাথ শিন্ডের কাছে মাত্র ৮ জন বিধায়ক ছিল, বাকিদের অমিত শাহ নিজে ফোন করে তুলে নিয়েছিলেন। তখন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ভয় দেখিয়েছিলেন যে, বাড়িতে ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI) হানা দেবে। পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক সেই একই খেলা খেলেছে বিজেপি।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৬০ জন বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলের একটি বড় অংশকে সঙ্গে নিয়ে আলাদা পথ চলার ঘোষণা করেছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর অবস্থানও পোক্ত করেছেন তিনি। তবে সঞ্জয় রাউতের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ কি মহারাষ্ট্রের মতো একই পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে। তবে শিবসেনা সাংসদের এই সরাসরি আক্রমণ তৃণমূল ভাঙার নেপথ্য কাহিনি নিয়ে নতুন করে চর্চা উসকে দিল।