হাসপাতালের ICU-তে জীবন্ত দগ্ধ ৪ রোগী! ঘটনাস্থলে না গিয়ে মুখে হাসি নিয়ে দিল্লি পালালেন বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী?

সাতসকালে হাসপাতালের আইসিইউ (ICU) ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং আগুনে পুড়ে চিকিৎসাধীন অন্তত চারজন রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এই চরম বিপর্যয়ের দিনেও দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে, মুখে হাসি নিয়ে দিল্লির বিমান ধরায় তীব্র বিতর্কের মুখে পড়লেন বিহারের এনডিএ (NDA) সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার। এই অসংবেদনশীল আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল আরজেডি (RJD)।

ভোররাতে নরককুণ্ড মুজাফফরপুরের হাসপাতাল, পুড়ে ছাই রোগীরা
সরকারি সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে মুজাফফরপুরের ব্রহ্মপুরা এলাকার ‘প্রসাদ হাসপাতাল’-এর চতুর্থ তলার আইসিইউ (ICU)-তে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিটের জেরেই এই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা আইসিইউ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের পক্ষে বাইরে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

খবর পেয়েই উদ্ধারকাজে নামে জেলা প্রশাসন। আইসিইউ-তে থাকা ১৩ থেকে ১৫ জন রোগীর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রায় ২০ জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লাশের ওপর দাঁড়িয়ে মুখে হাসি! স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে তুলকালাম
মুজাফফরপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা যখন বিহারের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে, ঠিক তখনই এক চরম অসংবেদনশীলতার ছবি সামনে এসেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার ন্যূনতম প্রয়োজন বোধ করেননি। উল্টে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে জেডিইউ (JDU)-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝার সাথে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

এই ঘটনার পরেই বিহারের প্রধান বিরোধী দল আরজেডি (RJD) এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শেনেছে। আরজেডি-র অভিযোগ, “স্বাস্থ্য দপ্তরের একাংশের সাথে যোগসাজশ করে সমস্ত নিয়ম কানুন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই অবৈধ হাসপাতালটি চালানো হচ্ছিল। আর এতগুলো মানুষের মৃত্যুর পরেও কোনো জবাবদিহি না করে, তীব্র গরমে হাতজোড় করে মুখে হাসি নিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী! এমন একজন মন্ত্রী কি বিহার চালানোর যোগ্য?”

ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, সোশ্যাল মিডিয়ায় দায় সারলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী!
দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে বিহার সরকার। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে, তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়ে অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে নীরবতা ভাঙেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার। এক্স-এ একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “মুজাফফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে এতগুলো মানুষের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক। আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে মন্ত্রীর এই টুইট-বার্তায় ক্ষোভ কমেনি সাধারণ মানুষের। একটি অবৈধ হাসপাতালে কীভাবে আইসিইউ চলছিল এবং এত বড় দুর্ঘটনার পরেও কেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিল্লি সফরকে অগ্রাধিকার দিলেন, সেই প্রশ্নই এখন বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।