তদন্তে গাফিলতি! স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশকে আল্টিমেটাম হাইকোর্টের

নিউটাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ ৮ মাস পর বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই চাঞ্চল্যকর মামলার মূল অভিযুক্ত তথা রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার জন্য রাজ্য পুলিশকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলেন বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়। একইসঙ্গে, তদন্তে চরম গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের ভর্ৎসনা ও নির্দেশ:
বুধবার মামলার শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত কঠোর। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মণকে গ্রেফতার না করা এবং চার্জশিটে তাঁর নাম না থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত প্রশান্তকে গ্রেফতার করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
অন্যদিকে, এই খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সজল সরকারের জামিনের আবেদনও এদিন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তির খাঁড়া:
তদন্তকারী অফিসার শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “আইন মেনে নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন তদন্তকারী অফিসার।” আদালতের মতে, এটি ‘গুরুতর কর্তব্যে অবহেলা’। এই কারণে রাজ্যের ডিজিপি-কে অভিযুক্ত অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগের আঙুল ওঠে তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মণ ও তাঁর সহযোগীদের দিকে। এরপরই বিডিও পদ থেকে সরানো হয় প্রশান্তকে। যদিও এরপর দীর্ঘদিন তিনি ফেরার ছিলেন। সম্প্রতি নিউটাউনের রাস্তায় এক পথ দুর্ঘটনার জেরে তাঁকে দেখা গেলেও, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মূল মামলায় তাঁকে গ্রেফতার না করায় ক্ষুব্ধ ছিল নিহতের পরিবার। অবশেষে হাইকোর্টের এই নির্দেশে ন্যায় বিচারের আশা দেখছেন তাঁরা।