ভারতে আসছে ভয়ঙ্কর এল নিনো! খরা আর ফসলহানির আশঙ্কায় ২৪০ জেলায় জারি হল হাই-অ্যালার্ট, কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ!

জলবায়ু পরিবর্তনের এক ভয়ঙ্কর রূপ ‘এল নিনো’ (El Niño)-র প্রভাবে চলতি বছরে ভারতে বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, খরা পরিস্থিতি এবং তার জেরে কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিপর্যয় রুখতে আগেভাগেই কোমর বেঁধে নেমেছে মোদী সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একটি উচ্চ-পর্যায়ের ‘সংকট ব্যবস্থাপনা দল’ (Crisis Management Team) গঠনের পাশাপাশি দেশজুড়ে একগুচ্ছ আপৎকালীন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

২৪০টিরও বেশি জেলায় হাই-অ্যালার্ট: হাই-লেভেল বৈঠকে কৃষিমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান দেশের কৃষি ও আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর একটি উচ্চ-পর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র সতর্কবার্তার পরেই দেশের ২৪০টিরও বেশি জেলায় বিশেষ জরুরি পরিকল্পনা (Contingency Plan) অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের তরফ থেকে গঠিত বিশেষ পর্যবেক্ষণ দলগুলি প্রতি সপ্তাহে বৈঠকে বসে আবহাওয়া, বীজ বপনের অগ্রগতি, বীজের পর্যাপ্ততা এবং দেশের প্রধান প্রধান জলাধারগুলিতে জলের স্তর খতিয়ে দেখছে।

কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের ৪ দফার মাস্টারপ্ল্যান:

বিকল্প ফসল ও খরা-সহনশীল বীজ: বৃষ্টিপাত কম হলে বা প্রধান খরিফ ফসল (যেমন ধান) বপনে দেরি হলে কৃষকদের কম সময়ে ফলনশীল এবং খরা-সহনশীল বিকল্প ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় বীজ সংরক্ষণাগারে (National Seed Reserve) জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বীজ মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শস্য পর্যবেক্ষণ দল: ফসলের স্বাস্থ্যের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে এবং কৃষকদের সময়মতো বর্ষার লাইভ আপডেট দিতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে।

কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে ফসলে কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং মড়ক লাগার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তা রুখতে আগাম ওষুধপত্র ও গাইডলাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জল ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা: মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে কৃষি পুকুর ও স্থানীয় জলাশয় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বাঁধ ও জলাধারের জল যাতে নষ্ট না করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেচকার্যে ব্যবহার করা যায়, তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

কেন এই এল নিনো ভারতকে নিয়ে এত চিন্তায় রাখছে?
সহজ কথায়, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি প্রক্রিয়া, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বিগড়ে দেয়। এর জেরে কোথাও হাড়কাঁপানো ঠান্ডা উধাও হয়ে যায়, কোথাও আবার দেখা দেয় অতিবৃষ্টি ও বন্যা। তবে ভারতের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক। এল নিনোর জেরে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

যেহেতু ভারতের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের ভাণ্ডার অনেকাংশেই বর্ষার বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল, তাই বৃষ্টি কম হলে মাঠের ফসল শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার এবং দেশজুড়ে তীব্র জলসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর সেই কারণেই কোটি কোটি অন্নদাতার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং খাদ্য সুরক্ষায় যাতে কোনো আঁচ না আসে, তা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।