Kota-য় ফের নিভে গেল আরও এক তাজা প্রাণ! গভীর রাতে PG-র বন্ধ ঘরে কী ঘটেছিল ১৭ বছরের আরিয়ানের সাথে?

রাজস্থানের শিক্ষানগরী কোটায় কোচিং পড়ুয়াদের আত্মহত্যার সিলসিলা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। ফের একবার এক নাবালক ছাত্রের চরম পদক্ষেপের ঘটনা সামনে আসায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। জওহর নগর থানা এলাকার ওল্ড রাজীব গান্ধী নগরের একটি পেয়িং গেস্ট (PG) আবাসন থেকে ১৭ বছর বয়সী এক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।
মধ্যরাতে পিজি-র ঘর থেকে উদ্ধার দেহ
জওহর নগর থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (ASI) জওহরলাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত ছাত্রের নাম আরিয়ান ওঝা (১৭)। সে উত্তর প্রদেশের সন্ত কবির নগরের বাসিন্দা কৃপা শঙ্কর ওঝার ছেলে। চলতি বছরের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই সে কোটায় পা রেখেছিল। সেখানকার একটি নামী কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে আইআইটি-জেইই (IIT-JEE) তথা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আরিয়ান।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত আনুমানিক ১০:৪৫ মিনিটে তাঁদের কাছে খবর আসে যে, এক ছাত্র নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘরের দরজা ভেঙে আরিয়ানের নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য এমবিএস (MBS) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
উদ্ধার হয়নি কোনো সুইসাইড নোট, ধোঁয়াশায় আত্মহত্যার কারণ
প্রাথমিক তদন্তে আরিয়ানের আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থল বা আরিয়ানের ঘর থেকে কোনো ধরনের সুইসাইড নোট বা চিরকুট উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই পিজির অন্যান্য ছাত্র এবং আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার মূল কারণ জানার চেষ্টা করছে। মানসিক চাপ নাকি অন্য কোনো কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কোটায় পৌঁছাবে পরিবার
পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আরিয়ানের পরিবারকে এই মর্মান্তিক খবরটি জানানো হয়েছে। খবর পেয়েই উত্তরপ্রদেশ থেকে রওনা দিয়েছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিয়ানের বাবা-মা কোটায় এসে পৌঁছাবেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই প্যানেল ময়নাতদন্ত করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনায় আরও একবার কোটার কোচিং কালচার ও পড়ুয়াদের ওপর তৈরি হওয়া মানসিক চাপ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।