বাথরুমে ফোন নিয়ে যাওয়ার অভ্যেস? সাবধান! হতে পারে অর্শ-এর মতো কঠিন রোগ

চিকিৎসকদের মতে, বাথরুমে ফোন ব্যবহারের ফলে অজান্তেই আমরা আমাদের শরীরের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করি। অর্শ বা পাইলস হলো পায়ুদ্বারের চারপাশের শিরার অস্বাভাবিক স্ফীতি, যা মলত্যাগের সময় প্রচণ্ড ব্যথা ও রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মোবাইল ও অর্শ: যোগসূত্র কোথায়?

অতিরিক্ত সময় ব্যয়: মোবাইলে ব্যস্ত থাকলে বাথরুমে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় অতিবাহিত হয়। দীর্ঘক্ষণ সামনের দিকে ঝুঁকে কমোডে বসে থাকার ফলে নিতম্ব ও পায়ুদ্বারের শিরার ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই চাপের ফলেই শিরাগুলো ফুলে গিয়ে অর্শের সৃষ্টি হয়।

ভুল ভঙ্গি: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কমোডে বসার পাশ্চাত্য পদ্ধতি আমাদের শরীরের গঠনের জন্য আদর্শ নয়। এর ওপর দীর্ঘক্ষণ বসে মোবাইলে ব্যস্ত থাকলে মলত্যাগের স্বাভাবিক চাপ বাধাগ্রস্ত হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা: নিয়মিত মোবাইলে ব্যস্ত থাকার ফলে মলত্যাগের স্বাভাবিক তাড়না কমে যায়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে পায়ুদ্বারের পেশি (রেট্রো সিগময়েড স্লিং) মল ঠিকমতো নির্গত হতে বাধা দেয়। ফলে পায়ুদ্বারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে, যা পরবর্তীকালে অর্শের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অর্শের অন্যান্য কারণ:
অর্শ শুধুমাত্র মোবাইলের ব্যবহারের কারণেই নয়, বরং আরও কিছু জীবনযাত্রার অভ্যাসের কারণে হতে পারে:

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য।

খাদ্যাভ্যাসে ফাইবারের অভাব।

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শারীরিক পরিবর্তন।

অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা।

আমাদের করণীয় কী?
সুস্থ থাকতে বাথরুমে ফোন নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা একান্ত জরুরি। বাথরুমে মলত্যাগের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যয় করুন। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত জল পান করার অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে অর্শের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।