“ফের হামলা হলে ফল হবে মারাত্মক”-আমেরিকাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি ইরানের IRGC-র

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ফের উত্তপ্ত। বুধবার রাতে আমেরিকার হামলার পর বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করে ভয়াবহ পালটা হামলা চালাল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। এই ঘটনার ফলে দীর্ঘদিনের টালবাহানা ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেস্তে যাওয়ার মুখে।

ঠিক কী ঘটেছে? বুধবার মধ্যরাতে স্থানীয় সময় রাত ১:৩০ মিনিট নাগাদ বন্দর আব্বাস এলাকার পূর্বদিকে পরপর তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আমেরিকার দাবি, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-চলাচল ও নিরাপত্তার স্বার্থে ‘আত্মরক্ষামূলক’ এই হামলা চালানো হয়েছিল।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের তরফ থেকে চরম সংঘাতের বার্তা আসে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪:৫০ মিনিট নাগাদ IRGC এক বিবৃতিতে জানায়, তারা একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে কোন ঘাঁটিটি তাদের নিশানায় ছিল, তা ইরান খোলসা করেনি।

আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি: ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আমেরিকাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। IRGC-র স্পষ্ট বার্তা, “যদি আমেরিকা এই ধরনের আগ্রাসন বজায় রাখে, তবে ইরান আরও চূড়ান্ত ও প্রাণঘাতী জবাব দেবে। এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে হামলাকারী রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।” হামলার পর ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় হয়ে আকাশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

পরিস্থিতি কতদূর? আমেরিকা বা ইরান—উভয় পক্ষই এই হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও সরকারিভাবে নীরব। তবে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি সেনার এই সরাসরি সংঘাত বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তেল সরবরাহ থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতি—এই উত্তেজনার আঁচ সবক্ষেত্রেই পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের দুই শক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান অদূর ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।