লাশকাটা ঘরে অনীক, উর্দির আড়ালে চোখের জল! লালবাজারের বাঘা গোয়েন্দার বুকফাটা হাহাকার

ফরেন্সিক লিঙ্গুইস্টিক্সের রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্যে—অনবদ্য জীবনবোধের অধিকারী পরিচালক অনীক দত্তের শেষ অধ্যায়টি এক গভীর বিষণ্ণতায় সমাপ্ত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুসংবাদ স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা টলিপাড়াকে। তবে এই মৃত্যুর তদন্তের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্য গল্প, যেখানে উর্দির কঠোর নিয়ম আর এক চলচ্চিত্র প্রেমীর হাহাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

মধ্যরাতের সেই ফোন:
অনীক দত্তের মৃত্যুর পর ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ বিভাগের হোমিসাইড শাখার প্রধান দেবাশীষ দত্ত। ঘটনার দিন রাত ১টা নাগাদ অভিনেতা-পরিচালক অরিত্র দত্ত বণিক তাঁকে ফোন করেন। অরিত্র জানতেন, দেবাশীষবাবু শুধু একজন বাঘা গোয়েন্দাই নন, তিনি নিজেও একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। অরিত্রর প্রশ্ন ছিল একটাই—একজন ফিল্মমেকার হিসেবে তিনি আজ কী দেখছেন?

গোয়েন্দার উর্দির আড়ালে এক অনুরাগী:
ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা দেবাশীষ দত্তের ভারাক্রান্ত কণ্ঠস্বরে ধরা পড়ল এক অমোঘ সত্য। অপরাধের অন্ধকার জগৎ যাঁদের নিত্যসঙ্গী, সেই দেবাশীষবাবুর গলা ছিল ভাঙা। তিনি বলেন, “আমি অনীক দত্তর ছবি খুব ভালোবাসতাম। বহুবার ইচ্ছে ছিল ওনার সাথে দেখা করার। দেখা হলো আজ… কিন্তু তখন ওনার পোস্টমর্টেম চলছে। আমি ভাবিনি এইভাবে দেখা হবে। খুব কষ্ট হচ্ছে।”

লালবাজারের বিশেষ নির্দেশ:
তদন্তকারী অফিসার হওয়ার পাশাপাশি দেবাশীষবাবু নিজেও একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। যে মানুষের সিনেমা দেখে তিনি রঙিন জগতের স্বপ্ন দেখতেন, আজ তাঁকেই সাদা-কালো ফ্রেমে, লাশকাটা ঘরে দেখার নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো তাঁকে। সূত্রের খবর, লালবাজার থেকে দেবাশীষ দত্তকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পিস হোম থেকে শ্মশান অবধি পুরো শেষযাত্রার পুলিশি ব্যবস্থাপনা দেখার দায়িত্ব তাঁর।

একজন পরিচালককে হারিয়ে টলিপাড়া শুধু একজন শিল্পীকেই হারাল না, বরং এক ভক্তের স্বপ্নও আজ চিরতরে বিলীন হয়ে গেল লাশকাটা ঘরের ঠান্ডা মেঝেয়। তদন্ত শেষ হবে, কেস ফাইল বন্ধ হবে, কিন্তু দেবাশীষ দত্তর এই বিষাদময় অভিজ্ঞতা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের সাক্ষী হয়ে রইল।