সিবিএসই-র রেজাল্টে ‘কারচুপি’? রাহুল গান্ধীর তোপ, পাল্টা জবাবে বোর্ড!

সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পরীক্ষার রেজাল্ট ও ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসরে নেমেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সিবিএসই-র নতুন ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (OSM) পদ্ধতিতে বড় ধরনের কারচুপি হয়েছে।

রাহুলের নিশানায় কী?
রাহুল গান্ধীর প্রধান অভিযোগ হলো:

ডিজিটাল মূল্যায়নের দায়িত্ব কেন একটি বিতর্কিত সংস্থা ‘COEMPT’-কে দেওয়া হলো? (আগে যার নাম ছিল ‘গ্লোবারেনা’)।

চুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের আশঙ্কা।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাহুলের দাবি, নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত বা SIT-এর মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক।

সিবিএসই-র সাফাই:
পাল্টা বিবৃতিতে সিবিএসই জানিয়েছে, রাহুলের অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’। বোর্ডের স্পষ্ট বক্তব্য:

পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া ‘জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুল’ মেনে সম্পন্ন হয়েছে।

২০২৫ সালের অগস্ট মাসে সেন্ট্রাল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট পোর্টালে স্বচ্ছভাবে দরপত্র ডাকা হয়েছিল।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি নেই এবং পোর্টাল হ্যাক হওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা আদতে একটি টেস্টিং সাইট ছিল, মূল পোর্টাল নয়।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
মূল বিতর্কের মূলে রয়েছেন বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক ছাত্র, যার দাবি—পুনর্মূল্যায়নের সময় পাওয়া পদার্থবিদ্যার উত্তরপত্রটি তার নিজেরই নয়। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। অনেকেই ওএসএম পদ্ধতিতে ভুল নম্বর, অস্পষ্ট স্ক্যান কপি এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ তুলেছেন।

স্বচ্ছতা আনতেই সিবিএসই এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে বলে দাবি করলেও, বর্তমান রাজনৈতিক তরজা ও পড়ুয়াদের ক্ষোভ এই মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।