চাঁদের বুকে ‘গুপ্তধনের’ সন্ধান! দক্ষিণ মেরুর অন্ধকার গর্তে মিলল বিপুল জল-বরফ, বড় সাফল্য ইসরোর

মহাকাশ গবেষণায় আবারও বিশ্বকে চমকে দিল ভারত। ইসরোর চন্দ্রযান-২ মিশনের অরবিটার গত সাত বছর ধরে নিরলসভাবে চাঁদের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে চলেছে। সেই অরবিটার থেকেই পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আহমেদাবাদের ‘ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ (PRL)-র বিজ্ঞানীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর অত্যন্ত শীতল গর্তগুলোর নিচে বিপুল পরিমাণে জল-বরফের (Subsurface Water-Ice) উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।

কীভাবে মিলল এই সন্ধান?
বিজ্ঞানীরা মূলত চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ‘পারমানেন্টলি শ্যাডোওড রিজিয়ন’ (PSR) বা চির-অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলোর ওপর নজর দিয়েছিলেন। এই অঞ্চলের গর্তগুলোর তাপমাত্রা মাইনাস ২৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। চন্দ্রযান-২-এ থাকা অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির ‘ডুয়াল ফ্রিকোয়েন্সি সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডার’ (DFSAR)-এর সাহায্য নিয়ে বিজ্ঞানীরা CPR এবং DOP প্যারামিটার ব্যবহার করে পাথর ও বরফের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। ফৌস্টিনি ক্রেটারের ভেতরে প্রায় ১.১ কিলোমিটার ব্যাসের একটি ছোট গর্তে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বরফের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কেন এই আবিষ্কার ‘গেম-চেঞ্জার’?
চাঁদের মাটিতে এই জলের সন্ধান আগামী দিনে মহাকাশ অভিযানের রূপরেখা বদলে দিতে পারে:

পানীয় ও জীবনধারণ: মহাকাশচারীদের দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

অক্সিজেন উৎপাদন: জল থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন তৈরি করা সম্ভব।

রকেট ফুয়েল: জল থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পৃথক করে রকেটের জ্বালানি তৈরি করা যেতে পারে। এর ফলে চাঁদকে ভবিষ্যতের ‘রিফুয়েলিং স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহার করে মঙ্গল বা তার বাইরে পাড়ি দেওয়া সহজ হবে।

মহাকাশ রেসে ভারতের জয়জয়কার
২০০৮ সালে চন্দ্রযান-১ চাঁদে জলের কণার উপস্থিতি প্রমাণ করেছিল। এরপর ২০২৩ সালে চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফলভাবে সফট ল্যান্ডিং করে ইতিহাস গড়েছে। এবার চন্দ্রযান-২-এর অরবিটার মাটির নিচের খাঁটি বরফের ভাণ্ডার চিহ্নিত করে প্রমাণ করল, মহাকাশ গবেষণার দৌড়ে ভারত এখন বিশ্বের অগ্রগণ্য দেশগুলোর অন্যতম। নাসা বা চিনের মতো শক্তিশালী দেশগুলোকে টেক্কা দিয়ে ভারতের এই সাফল্য বিশ্বমঞ্চে ইসরোর অবস্থান আরও মজবুত করল।