অনীক দত্তের প্রয়াণে স্তব্ধ টালিগঞ্জ থেকে ঢাকা! সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়া আহসানের আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি

মাত্র কয়েকদিন আগেই ঘটা করে পালন করেছিলেন জন্মদিন। ২২ মে শুভেচ্ছার জোয়ারে ভেসেছিলেন তিনি। অথচ সেই আনন্দের সপ্তাহ ঘোরার আগেই এক আকস্মিক মৃত্যুসংবাদে স্তব্ধ হয়ে গেল বাংলা চলচ্চিত্র জগত। বুধবার দুপুরে প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্তের প্রয়াণের খবর আসতেই টালিগঞ্জ থেকে ঢাকার শিল্পীমহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, বুধবার দুপুরে নিজের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন পরিচালক। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানা যাচ্ছে, যা নিয়ে এখন দানা বেঁধেছে রহস্য। গড়িয়াহাট থানায় ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।

জয়া আহসানের আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি:
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে থাকা অভিনেত্রী জয়া আহসান সোশ্যাল মিডিয়ায় অনীক দত্তকে স্মরণ করেছেন গভীর আবেগে। জীবনানন্দ দাশের কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, “একটা নিরন্তর ফাঁক থেকে গেল বুঝি বা। গুণমুগ্ধ দর্শকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলে যাওয়া যেন।” জয়া মনে করেন, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ থেকে ‘অপরাজিত’— অনীক দত্তের প্রতিটি কাজই ছিল জীবনকে দেখার এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি।

প্রশ্নের মুখে শোকাতুর ইন্ডাস্ট্রি:
পরিচালকের এই মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের শুভানুধ্যায়ীরা। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মতো সহকর্মীরা তাঁর প্রয়াণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, “অনীকদার মতো মানুষ কেন হঠাৎ এভাবে বিদায় নেবেন?” তাঁর তীক্ষ্ণ রসবোধ, আপসহীন মনোভাব এবং স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রভাষার অভাব যে বাংলা সিনেমা অপূরণীয়, তা মানছেন সকলেই।

এত প্রাণবন্ত ও সৃষ্টিশীল একজন মানুষ কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে এখন তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। উত্তরহীন এই আক্ষেপ এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁর অসংখ্য অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে।