২৮ বছর পর কি কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা? মমতা ও অভিষেককে বড় প্রস্তাব সোনিয়া-রাহুলের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও ব্যাপক ভাঙনের মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এক চাঞ্চল্যকর জল্পনা দানা বেঁধেছে। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস। এবার শোনা যাচ্ছে, সেই কংগ্রেসেই ফিরে যেতে পারেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সোনিয়া ও রাহুলের বড় প্রস্তাব
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক একান্ত বৈঠকের পরই এই প্রস্তাব সামনে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। একইসঙ্গে, মমতা-উত্তর প্রজন্মের প্রধান মুখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁকে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২৮ বছর পর কি ‘ঘর ওয়াপসি’?
১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ২৮ বছর পর তাঁর কংগ্রেসে ফেরা মানেই ভারতীয় রাজনীতির সমীকরণে এক বিশাল বড় পরিবর্তন। বিশেষ করে যখন নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে সাংসদ ও বিধায়কদের বিদ্রোহ এবং দলত্যাগের জেরে অস্তিত্ব সংকটের মুখে, তখন এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন
তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে, যেখানে দলের অনেক নেতা বিদ্রোহী হয়ে এনডিএ-র দিকে ঝুঁকছেন, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সম্ভাব্য ‘ঘর ওয়াপসি’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তাঁর অস্তিত্ব রক্ষার একটি কৌশল হতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে তৃণমূল বা কংগ্রেস—কোনো পক্ষই এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবুও এই জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল কি তবে অচিরেই ভেঙে যাবে? নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব বিলীন করে দিয়ে তিনি ফের কংগ্রেসের পতাকাতলে একত্রিত করবেন তাঁর দলকে? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচ্য বিষয়।