ধর্মীয় মহলে তোলপাড়! শঙ্করাচার্য অবিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করার কথা স্বীকার আশুতোষ ব্রহ্মচারীর

দেশের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মহলে বর্তমানে এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ ও জগদ্গুরু রামানন্দাচার্য স্বামী রামভদ্রাচার্যকে কেন্দ্র করে আশুতোষ ব্রহ্মচারীর একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ও স্বীকারোক্তি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মিথ্যে মামলার স্বীকারোক্তি
আশুতোষ ব্রহ্মচারী জনসমক্ষে স্বীকার করেছেন যে, রামচন্দ্র দাসের প্ররোচনা ও চাপে তিনি শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। এই ঘটনায় আরও অনেকেই জড়িত রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। আশুতোষের অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে এফআইআর (FIR) করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, আর এখন মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারে এবং তাঁর কিছু হলে তার জন্য রামচন্দ্র দাস ও তাঁর সহযোগীরাই দায়ী থাকবেন। উল্লেখ্য, আশুতোষ মহারাজের বিরুদ্ধেই আবার ২১টি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে।
রামভদ্রাচার্যকে নিয়ে আশঙ্কার বার্তা
দিনকয়েক আগে আশুতোষ ব্রহ্মচারী একটি ভিডিও প্রকাশ করে সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে জগদ্গুরু স্বামী রামভদ্রাচার্য মহারাজকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে রামচন্দ্র দাস ওরফে জয় ত্রিপাঠীর নাম উল্লেখ করে তাঁকে এই সম্ভাব্য অপরাধের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ভিডিও ঘিরে আধ্যাত্মিক মহলে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়।
রামভদ্রাচার্যের প্রতিক্রিয়া
নিজের নাম জড়ানোর পর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য মহারাজ। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “আশুতোষ ব্রহ্মচারীর মন্তব্য আমার এবং আমার উত্তরসূরির ভাবমূর্তি নষ্ট করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র। সে আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ।” রামভদ্রাচার্য আরও জানান, আশুতোষের এই আচরণে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। জগদ্গুরুর মতে, ধর্মীয় আলোচনা ও অনুষ্ঠানের জন্য তিনি দেশে-বিদেশে অনেকের সঙ্গেই মেশেন, কিন্তু আশুতোষের এই মানসিকতা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বিন্দুমাত্র অবগত ছিলেন না।
প্রশাসনের দ্বারস্থ
ইতিমধ্যেই আশুতোষ ব্রহ্মচারী তাঁর কাছে থাকা অডিও ও ভিডিও প্রমাণাদি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুরো ঘটনাটির তদন্ত এবং রামচন্দ্র দাস ওরফে জয় মিশ্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একদিকে আশুতোষ ব্রহ্মচারীর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ও অভিযোগ, অন্যদিকে জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্যের পাল্টা সতর্কবার্তা—সব মিলিয়ে ধর্মীয় এই বিবাদ এখন আইনি লড়াইয়ের মোড় নিয়েছে। প্রশাসন এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আমজনতা।