মাওবাদী মুক্ত ভারতের শেষ বাধা? সারেণ্ডার জঙ্গলে ৪০০০ জওয়ানের ঘেরাটোপে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মিসির বেসরা

ভারতের মাওবাদী দমনে এক চূড়ান্ত পর্যায়ের অভিযানে নেমেছে নিরাপত্তা বাহিনী। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের সারেণ্ডার ঘন জঙ্গলে চার হাজার জওয়ানের বিশাল বাহিনী ঘিরে ফেলেছে সিপিআই (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরোর শেষ ‘অধরা’ সদস্য মিসির বেসরাকে। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছে ১ কোটি টাকা।
কে এই মিসির বেসরা?
৬৬ বছর বয়সী মিসির বেসরা মাওবাদী সংগঠনের বর্তমান সবথেকে প্রভাবশালী কমান্ডারদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৭ সালে গ্রেফতার হলেও ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাইয়ে পুলিশি হেফাজত থেকে সশস্ত্র হামলায় তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় মাওবাদীরা। সেই ঘটনার পর থেকে গত ১৬ বছর ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পলাতক রয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ডজনখানেক ভয়াবহ হামলার ছক কষার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ২০০৪ সালে ৩২ জন পুলিশকর্মীর প্রাণহানির ঘটনা অন্যতম।
অপারেশন সারেণ্ডা: চূড়ান্ত কৌশলে বাহিনী
গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে সিআরপিএফ (CRPF), কোবরা (CoBRA) এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে। সারেণ্ডার জঙ্গলের ভেতরে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়। ওড়িশা ও ছত্তিশগড় সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশল স্পষ্ট:
রসদ বন্ধ: মিসির বেসরা যে গ্রামে লুকিয়ে আছেন, সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মানসিক চাপ: তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও তাঁকে আত্মসমর্পণের আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থায়ী ঘাঁটি: জঙ্গল অভিযানে গতি আনতে ওই এলাকায় তৈরি করা হয়েছে একাধিক ‘ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস’ (FOB)।
পতন কি সময়ের অপেক্ষা?
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা ও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন সংঘর্ষে মাওবাদী পলিটব্যুরোর বেশিরভাগ নেতাই হয় নিহত হয়েছেন, নয়তো আত্মসমর্পণ করেছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে ৭,৪০০-এর বেশি মাওবাদী গ্রেফতার হয়েছে এবং প্রায় ৬,০০০ আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবারও ২৭ জন মাওবাদী ‘অপারেশন নবজীবন’-এর অধীনে আত্মসমর্পণ করেছেন, যা মিসির বেসরার নেটওয়ার্ককে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তার মতে, “জঙ্গলের ভেতরে নিরাপত্তা বলয় ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। রসদ ফুরিয়ে আসায় আত্মসমর্পন করাই এখন বেসরার সামনে একমাত্র পথ।” ভারতের ‘মাওবাদী মুক্ত’ লক্ষ্যপূরণে মিসির বেসরার গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই দীর্ঘ লড়াইয়ের ‘চূড়ান্ত অধ্যায়’ হিসেবেই দেখছেন।